Wednesday 15 Apr 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

তারল্য থাকলেও ঋণ সংকটে ব্যাংকিং খাত: ডিসিসিআই

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১৫ এপ্রিল ২০২৬ ১৬:৩৭ | আপডেট: ১৫ এপ্রিল ২০২৬ ১৮:০৭

– ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা: দেশের ব্যাংক খাত ২০২৬ সালের শুরুতেই এক জটিল ও বৈপরীত্যপূর্ণ পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে। ব্যাংকগুলোর হাতে রেকর্ড পরিমাণ অতিরিক্ত তারল্য থাকলেও বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ কমে যাওয়ায় বিনিয়োগ ও শিল্প উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে মন্তব্য করেছেন ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) রাজধানীর মতিঝিলে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘ব্যাংকিং খাতের সমন্বয় : ঋণদাতা ও ঋণগ্রহীতার দৃষ্টিভঙ্গি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন ডিসিসিআই সভাপতি। ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদের সঞ্চালনায় এতে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা প্রফেসর ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ব্যাংকিং ব্যবস্থায় অতিরিক্ত তারল্যের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ২১ হাজার ২৫৬ কোটি টাকা। লিকুইডিটি কভারেজ রেশিও (LCR) ১৮৫.৩১ শতাংশে পৌঁছেছে, যা ন্যূনতম প্রয়োজনীয়তার প্রায় দ্বিগুণ। তবে এই তারল্য বাস্তব অর্থনীতিতে প্রবাহিত না হওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে।

তাসকীন আহ‌মেদ ব‌লেন, অতিরিক্ত তারল্য থাকা সত্ত্বেও বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৬.০৩ শতাংশে নেমেছে, যা আগের বছরের তুলনায় কম। ব্যাংকগুলো ঝুঁকি এড়াতে ব্যবসায়িক ঋণের বদলে নিরাপদ ট্রেজারি বিলে বিনিয়োগে ঝুঁকছে, যেখানে তুলনামূলকভাবে নিশ্চিত মুনাফা পাওয়া যাচ্ছে।

তি‌নি জান‌ান, সরকারের ব্যাংক ঋণ গ্রহণ ৬৭৩ শতাংশ বেড়ে যাওয়ায় বেসরকারি খাত ঋণবঞ্চিত হচ্ছে। অর্থনীতিবিদরা একে ‘ক্রেডিট ক্রাউডিং আউট’ হিসেবে উল্লেখ করছেন।

তি‌নি আরও ব‌লেন, ব্যাংক খাতের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ খেলাপী ঋণ। সামগ্রিকভাবে খেলাপী ঋণের হার ৩১.২ শতাংশে পৌঁছেছে। বড় কর্পোরেট ঋণের ক্ষেত্রে এ হার এক বছরে ৩০.৪ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪১.৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

এ কারণে ব্যাংকগুলোর মূলধন সক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্যাপিটাল টু রিস্ক ওয়েটেড অ্যাসেট রেশিও (CRAR) কমে ৪.৭৩ শতাংশে নেমেছে, যেখানে ন্যূনতম প্রয়োজন ১২.৫ শতাংশ। প্রায় ২০টি ব্যাংক বড় ধরনের মূলধন ঘাটতিতে পড়েছে।

তি‌নি ব‌লেন, ঋণ সংকটের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে শিল্প ও ক্ষুদ্র-মাঝারি উদ্যোক্তা খাতে। শিল্প খাতে ঋণ পুনরুদ্ধার প্রায় ৫০.৫ শতাংশ কমে গেছে। ফলে উদ্যোক্তারা আগের ঋণ শোধ করতে পারছেন না এবং নতুন বিনিয়োগেও পিছিয়ে যাচ্ছেন। শিল্প উৎপাদনের প্রবৃদ্ধি ৭.৬৭ শতাংশ থেকে কমে ২.১৭ শতাংশে নেমেছে। ক্ষুদ্র ,কুটির ও মাঝারি শিল্প খাতে খেলাপী ঋণের হার দাঁড়িয়েছে ৩৫.৪৩ শতাংশ— অর্থাৎ প্রতি তিনজন উদ্যোক্তার মধ্যে একজন ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হচ্ছেন।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশ ব্যাংক জানুয়ারি ২০২৬ থেকে ‘সিক্স-প্যাক সুপারভিশন’ চালু করেছে। পাশাপাশি জুন ২০২৬ এর মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের খেলাপী ঋণ ১০ শতাংশ এবং বেসরকারি ব্যাংকের ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করার আহ্বান ক‌রেন তি‌নি ।

সারাবাংলা/এসএ/এসআর
বিজ্ঞাপন

পরীমণির বৈশাখী স্মৃতি
১৫ এপ্রিল ২০২৬ ১৭:৪৩

আরো

সম্পর্কিত খবর