Thursday 16 Apr 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

‘বন্দুকযুদ্ধে’ দুই শিবির নেতাকে গুলি, অভিযোগ গঠনের আদেশ ২০ এপ্রিল

স্টাফ করেসপন্ডেট
১৬ এপ্রিল ২০২৬ ১৪:২০

ছবি: সারাবাংলা

ঢাকা: যশোরের চৌগাছায় গ্রেফতারের পর বন্দুকযুদ্ধের নাটক সাজিয়ে ছাত্রশিবিরের দুই নেতাকে গুলি করার অভিযোগে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) গঠনের আদেশের জন্য আগামী ২০ এপ্রিল দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বেঞ্চ এ আদেশ দেন। বেঞ্চের অপর সদস্য বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ।

এদিন আসামিদের অব্যাহতি চেয়ে শুনানি করেন তাদের আইনজীবীরা। কনস্টেবল সাজ্জাদুর রহমান ও কনস্টেবল জহরুল হকের পক্ষে আইনজীবী লিটন আহমেদ দাবি করেন, ঘটনাটি মানবতাবিরোধী অপরাধের আওতায় পড়ে না। একইভাবে উপ পরিচালক (এসআই) আকিকুল ইসলামের আইনজীবীও বলেন, ঘটনাটি ওয়াইড স্প্রেড বা সিস্টেমেটিক অ্যাটাক নয় তাই তার মক্কেলের অব্যাহতি প্রাপ্য।

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম ওয়াইড স্প্রেড ও সিস্টেমেটিক অ্যাটাক এর আইনি ব্যাখ্যা তুলে ধরে বলেন, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনার প্রেক্ষাপটে এটি একটি বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ। এ সময়ের অধিকারের প্রতিবেদনও ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

উভয়পক্ষের শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ গঠনের বিষয়ে আদেশের জন্য ২০ এপ্রিল দিন নির্ধারণ করেন।

এর আগে, ১২ এপ্রিল প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি শেষে প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আবেদন করেন। তিনি জানান, ২০১৬ সালে চৌগাছা উপজেলা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি ইসরাফিল হোসেন ও সাহিত্য সম্পাদক রুহুল আমিনকে গ্রেফতারের পর তাদের পায়ে গুলি করা হয়। পরে ক্ষতস্থানে বালু ঢুকিয়ে গামছা দিয়ে বেঁধে হাসপাতালে নেওয়া হয়। এতে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়লে একপর্যায়ে দুজনের পা কেটে ফেলতে হয়।

এ মামলায় গ্রেফতার তিন আসামি হলেন চৌগাছা থানার তৎকালীন এসআই আকিকুল ইসলাম, কনস্টেবল সাজ্জাদুর রহমান ও কনস্টেবল জহরুল হক। এছাড়া পলাতক রয়েছেন তৎকালীন এসপি আনিসুর রহমান, ওসি মশিউর রহমান এবং এসআই মোখলেছ, জামাল ও মাজেদুল।

প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ৩ আগস্ট রুহুল আমিন ও ইসরাফিল হোসেনকে মিথ্যা মামলায় আটক করে আদালতে না তুলে কয়েকদিন নির্যাতন করা হয়। পরে ‘বন্দুকযুদ্ধ’ দেখিয়ে তাদের পায়ে গুলি করা হয় এবং ক্ষতস্থানে বালু ঢুকিয়ে মিথ্যা অস্ত্র মামলায় চালান দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ওই অস্ত্র মামলাটি মিথ্যা প্রমাণিত হয়।

সারাবাংলা/টিএম/এনজে
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর