Thursday 16 Apr 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

নির্মাণাধীন ভবনের লিফটের গর্তে ফেলে কলেজছাত্রকে হত্যা

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
১৬ এপ্রিল ২০২৬ ১৬:৪৮

কলেজছাত্র আশফাক কবির সাজিদ – ছবি : সংগৃহীত

চট্টগ্রাম: শহরের কলেজছাত্র আশফাক কবির সাজিদ (১৭)-কে মারধরের পর একটি নির্মাণাধীন ভবনের আটতলা থেকে লিফটের গর্তে ফেলে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।

গত রোববার (১২ এপ্রিল) রাতে চকবাজার থানার ডিসি রোড এলাকার মৌসুমি আবাসিকের একটি নির্মাণাধীন ভবনে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত সাজিদের বাবা আবুল হাশেম সিকদার বাদী হয়ে মঙ্গলবার চকবাজার থানায় এ-সংক্রান্ত একটি মামলা দায়ের করেছেন।

মামলায় সুনির্দিষ্ট ৭ জন ছাড়াও আরও ৫-৬ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। এজাহারভুক্ত আসামিরা হচ্ছেন- আইমন, অনিক, রানা মাইকেল, ইলিয়াস, এনায়েত উল্লাহ, মিসকাতুল কায়েস ও ভবনের দারোয়ান এনামুল হক। আসামিদের বেশিরভাগই একটি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য।

বিজ্ঞাপন

সোমবার রাতে কিশোর গ্যাংয়ের দুই গ্রুপের মারামারির সময় বিএফ শাহীন কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র সাজিদকে ৮ তলা থেকে লিফটের জন্য রাখা ফাঁকা গর্তে ফেলে দিয়ে হত্যা করা হয়।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সাজিদ লেখাপড়ার সুবাদে ডিসি রোড শিশু কবরস্থানের পাশে কেএম মঞ্জিলের ষষ্ঠতলায় ব্যাচেলর হিসেবে ভাড়া বাসায় থাকতেন। সোমবার চকবাজার থানার মৌসুমি আবাসিক এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

মামলার এজাহারে বলা হয়, রোববার (১২ এপ্রিল)ঘটনার দিন বিকালে সাজিদের বন্ধু ফারদিন হাসানকে মোবাইলে কল দিয়ে বাকলিয়া এক্সেস রোডের মৌসুমি আবাসিকের মোড়ে দেখা করে। তারা দুইজনে কথা বলার সময় আইমন, অনিক, মাইকেল রানা, ইলিয়াস, এনায়েত উল্লাহ ও মিসকাতুল কায়েসসহ কয়েক কিশোর গ্যাং সদস্য ধারাল ছোরার ভয় দেখিয়ে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। তাদের কবল থেকে বাঁচতে সাজিদ কৌশলে চকবাজার থানাধীন ডিসি রোডের মৌসুমি আবাসিকের ‘আমিন অ্যান্ড হাসান ম্যানশনের ভবনের ভিতরে প্রবেশ করে ভেতর থেকে ভবনে প্রবেশের প্রধান গেট আটকিয়ে ভবনের ৮ম তলায় উঠে যায়।

তবে হামলাকারীরা ভবনটির গেটে ধাক্কা দিলে নিরাপত্তাকর্মী এনামুল হক গেট খুলে দেন। কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য আইমনসহ অন্যরা ভবনের উপরে উঠে সাজিদকে মারধর করে ভবনের ৮ম তলার লিফটের খালি জায়গা দিয়ে নিচে ফেলে দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাকে মৃত ঘোষণা করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক।

পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, হত্যা মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে ঘটনাস্থলের আশপাশের একাধিক ভিডিও ফুটেজ জব্দ করা হয়েছে। এসব ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে ঘটনায় কারা কারা জড়িত তাদের শনাক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

চকবাজার থানার ওসি বাবুল আজাদ সারাবাংলাকে বলেন, নিহতের পিতা ৭ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৫-৬ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। ভবনটির দারোয়ান এনামুল হককে গ্রেফতারের পর এ মামলায় আদালতে পাঠানো হয়েছে। অন্যদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর