Friday 17 Apr 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

উধাও বোতলজাত তেল, হিলিতে খোলা সয়াবিন ২০৮ টাকা

লোকাল করেসপন্ডেন্ট
১৭ এপ্রিল ২০২৬ ১৫:৩১ | আপডেট: ১৭ এপ্রিল ২০২৬ ১৫:৩২

ছবি: সংগৃহীত।

হিলি: দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার হিলি বাজারে সয়াবিন তেলের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। দাম বৃদ্ধির আশঙ্কায় বাজারে বোতলজাত তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরি হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় অনেক দোকানেই মিলছে না বোতলজাত তেল, আর এই সুযোগে খোলা সয়াবিন তেলের দাম বেড়ে বেড়েছে লিটারপ্রতি ২০৮।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সকাল ১১ টায় হিলি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সয়াবিন তেলের বাজারে তীব্র সংকট বিরাজ করছে। অধিকাংশ মুদি দোকানে ১ লিটার, ২ লিটার, ৫ লিটার কিংবা ৫০০ গ্রামের কোনো বোতলজাত সয়াবিন তেল নেই।

​সরবরাহ সংকটের কারণে বাজারে বোতলজাত তেল প্রায় উধাও হয়ে গেছে, ফলে ক্রেতারা কেবল খোলা সয়াবিন তেলের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হচ্ছেন। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় অনেক দোকানি বোতলজাত তেল বিক্রি করা বন্ধ করে দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বাজারের খুচরা ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ডিলার বা কোম্পানিগুলো তেল সরবরাহের ক্ষেত্রে বিতর্কিত শর্ত জুড়ে দিচ্ছে। ব্যবসায়ী আলোক কুমার অধিকারী জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে সরবরাহ ব্যাপক কমেছে। এক কার্টন (১৮ বোতল) তেল নিতে হলে আমাদের ওপর ৩ কেজি চা-পাতা বা ১০ কেজি আটা কেনার শর্ত চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। বাড়তি এসব পণ্য বিক্রি করা আমাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ছে। আরেক ব্যবসায়ী মোকারম হোসেন জানান, চাহিদামতো পণ্য না পাওয়ায় বাজারে অস্থিরতা বাড়ছে এবং এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে দামের ওপর।

বোতলজাত তেল না পেয়ে বাধ্য হয়ে চড়া দামে খোলা তেল কিনছেন ক্রেতারা। ক্রেতা আলমগীর হোসেন জানান, দীর্ঘক্ষণ খুঁজেও বোতলজাত তেল না পেয়ে তিনি বাড়তি দামে খোলা তেল কিনতে বাধ্য হয়েছেন। অন্যদিকে, অতিরিক্ত দামের কারণে অনেকে তেল না কিনেই বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম।

​গৃহিণী রেহেনা খাতুন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বাজারে বোতলজাত তেল নেই, আর খোলা তেলের দাম আকাশচুম্বী। সাধারণ মানুষের সংসার চালানো দায় হয়ে পড়েছে। প্রশাসনের উচিত দ্রুত বাজার মনিটরিং করা।

এ বিষয়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, দিনাজপুর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক বোরহান উদ্দিন বলেন, হিলিতে তেলের বাজার পরিস্থিতি আমরা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। কেউ যদি অবৈধভাবে মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া কোনো কোম্পানি যদি অন্য পণ্য কেনার শর্তে তেল সরবরাহ করে, তবে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেবে অধিদপ্তর।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর