Friday 17 Apr 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

যশোর বোর্ডে এসএসসিতে পরীক্ষার্থী কমেছে ৩০০-এর অধিক, ফিরেছে ‘সাইলেন্ট এক্সপেল’

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
১৭ এপ্রিল ২০২৬ ১৫:৫১

যশোর: চলতি শিক্ষা বছরে অনুষ্ঠিতব্য মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষায় যশোর বোর্ড থেকে অংশ নিবে ১ লাখ ৩৫ হাজার ৮৯ জন শিক্ষার্থী। গতবারের চেয়ে এবার পরীক্ষার্থী কমেছে ৩০০-এর অধিক। খুলনা বিভাগের ১০ জেলার ২৯৯টি পরীক্ষা কেন্দ্রে এসব পরীক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করবে। প্রতিটি কক্ষেই বসানো হয়েছে সিসি ক্যামেরা। এদিকে, শিক্ষাবোর্ডের পক্ষ থেকে সব ধরণের প্রস্তুতি সম্পন্নের সাথে শতভাগ নকলমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পরীক্ষা কক্ষে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ‘সাইলেন্ট এক্সপেল’ বা নীরবে বহিষ্কারের বিধান রাখা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, আগামী ২১ এপ্রিল সারাদেশে একযোগে শুরু হতে যাচ্ছে মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষা ২০২৬। এবারের পরীক্ষায় যশোর শিক্ষাবোর্ডের ২ হাজার ৫৭২টি মাধ্যমিক স্কুল থেকে ১ লাখ ৩৫ হাজার ৮৯ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেবে। এর মধ্যে অনিয়মিত পরীক্ষার্থী ২৫ হাজার ৬৭৮ জন ও জিপিএ উন্নয়ন পরীক্ষার্থী ১৪৫ জন। ২০২৫ সালে এ বোর্ডে পরীক্ষার্থী ছিল ১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৫১ জন। সে অনুযায়ী এবার ৩ হাজার ৭৬২ জন পরীক্ষার্থী কমেছে। মোট পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ৬৬ হাজার ৯২৮ জন ছাত্র ও ৬৮ হাজার ১৬১ জন ছাত্রী।

যশোর শিক্ষাবোর্ডের অধীনে খুলনা বিভাগের ১০ জেলার মধ্যে খুলনা জেলার ৪০৪ স্কুলের পরীক্ষার্থী সংখ্যা ২১ হাজার ৪২৮ জন। বাগেরহাট জেলার ২৯৫ স্কুলের পরীক্ষার্থী ১১ হাজার ৯২৬ জন। সাতক্ষীরা জেলার ২৯৭ স্কুলে পরীক্ষার্থী সংখ্যা ১৪ হাজার ২৪৭ জন। কুষ্টিয়া জেলার ২৭২ স্কুলে পরীক্ষার্থী সংখ্যা ১৯ হাজার ৭৪৯ জন। চুয়াডাঙ্গা জেলার ১৪১ স্কুলে পরীক্ষার্থী সংখ্যা ৮ হাজার ৯৬২ জন। মেহেরপুর জেলার ১১৭ স্কুলে পরীক্ষার্থী সংখ্যা ৬ হাজার ২০০ জন। যশোর জেলার ৪৮৯ স্কুলে পরীক্ষার্থী সংখ্যা ২২ হাজার ৮৮ জন। নড়াইল জেলার ১১৭ স্কুলে পরীক্ষার্থী সংখ্যা ৬ হাজার ৬৪ জন। ঝিনাইদহ জেলার ২৭৪ স্কুলে পরীক্ষার্থী সংখ্যা ১৬ হাজার ৩৪৯ জন। মাগুরা জেলার ১৬৬ স্কুলে পরীক্ষার্থী সংখ্যা ৮ হাজার ৭৬ জন।

বোর্ড কর্তৃপক্ষ জানায়, শতভাগ নকলমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পরীক্ষা কেন্দ্রের আশপাশে ১৪৪ ধারা জারি থাকবে এবং কেন্দ্রগুলোতে পর্যাপ্ত নজরদারি নিশ্চিত করা হবে। এরই মধ্যে শিক্ষামন্ত্রীর উপস্থিতিতে ২৯৯ জন কেন্দ্র সচিবকে নিয়ে মতবিনিময় সভা করা হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী নিজে বিভিন্ন ধরণের পরামর্শ ও নির্দেশনা দিয়েছেন। পরীক্ষা পরিচলনা করার জন্য বোর্ডের পক্ষ থেকে একটি নীতিমালা প্রণয়ন করে কেন্দ্র সচিবদের কাছে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া প্রতিটি কেন্দ্রে প্রতিষ্ঠানের নিজ ব্যবস্থাপনায় বসানো হয়েছে সিসি ক্যামেরা। প্রতি সপ্তাহে কেন্দ্রের ভিডিও ফুটেজ বোর্ডে পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

পরীক্ষা কক্ষে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ‘সাইলেন্ট এক্সপেল’ বা নীরবে বহিষ্কারের বিধান রেখে বোর্ডের পক্ষ থেকে নতুন নীতিমালা প্রকাশ করা হয়েছে। পাবলিক পরীক্ষার সময় কোনো শিক্ষার্থীকে সরাসরি নকল করতে ধরা না পড়লেও, যদি সে পরীক্ষার হলে নিয়ম ভঙ্গ করে-যেমন কথা বলা, বারবার এদিক-ওদিক তাকানো বা অন্যের উত্তর দেখে লেখা—তাহলে দায়িত্বরত কক্ষ পরিদর্শক ‘নীরব বহিষ্কার’ বা ‘সাইলেন্ট এক্সপেল’ পদ্ধতি প্রয়োগ করতে পারেন। এ ব্যবস্থায় পরীক্ষার্থী সঙ্গে সঙ্গে বুঝতে পারেন না যে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে পরে তার পরীক্ষার খাতা বাতিল করে দেওয়া হয়।

যশোর শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ড. আব্দুল মতিন বলেন, ‘শিক্ষাবোর্ডের পক্ষ থেকে সব ধরণের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে অনিয়মের সুস্পষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে পরীক্ষা আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি জানান, আবারও ‘সাইলেন্ট এক্সপেল’ ফিরেছে। শিক্ষার্থী ও কেন্দ্র সচিবদের এই বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে সবক্ষেত্রেই এটি প্রয়োগ হবে না। শুধুমাত্র কক্ষে যে পরিক্ষার্থী পরিবেশ নষ্ট করবে; তার বিরুদ্ধেই এই ধরণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে পরীক্ষার্থীদের আতংকিত হওয়ার কোনো কারণ নেই বলে জানান এই কর্মকর্তা।’

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর