Tuesday 28 Apr 2026
সারাবাংলা: লেটেস্ট বাংলা খবর | ব্রেকিং নিউজ | Sarabangla.net

৯ মাসে এলসি খোলা কমেছে ১১ শতাংশ

আদিল খান
২৬ এপ্রিল ২০২৬ ২৩:২০
সারাবাংলা: লেটেস্ট বাংলা খবর | ব্রেকিং নিউজ | Sarabangla.net

ঢাকা: পোশাকের বিদেশি কার্যাদেশ হ্রাস, শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে টান এবং নতুন বিনিয়োগ কমায় রফতানিমুখী শিল্পপণ্য উৎপাদনের জন্য ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি খোলায় খরা দেখা দিয়েছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে মার্চ সময়ে এলসি খোলা এবং নিষ্পত্তি উভয় কমেছে। চলতি অর্থবছরের ৯ মাসে (জুলাই-মার্চ) এলসি খোলা কমেছে ১০ দশমিক ৯৫ শতাংশ এবং নিষ্পত্তি কমেছে ৭ দশমিক ৯৩ শতাংশ।

রোববার(২৬ এ‌প্রিল) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রথম ৯ মাসে রফতানিমুখী শিল্পের কাঁচামাল ও মূলধনী পণ্যের ব্যাক টু ব্যাক এলসি খোলার পরিমাণ দাঁড়ায় ৭ দশমিক ৬৭ মার্কিন বিলিয়ন ডলার। তার আগে ২০২৪-২৫ অর্থবছর একই সময়ে (জুলাই-মার্চ) ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি খোলা হয়েছিল ৮ দশমিক ৬১ বিলিয়ন ডলার। সেই হিসাবে এক বছরে খোলা কমেছে শূন্য দশমিক ৯৪ বিলিয়ন ডলার বা ১০ দশমিক ৯৫ শতাংশ। একইভাবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রথম ৯ মাসে কাঁচামাল ও মূলধনী পণ্যের ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি নিষ্পত্তির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৩৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। তার আগে ২০২৪-২৫ অর্থবছর একই সময়ে (জুলাই-মার্চ) ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি নিষ্পত্তি ছিল ৭ দশমিক ৯৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। সেই হিসাবে এক বছরে নিষ্পত্তি কমেছে শূন্য দশমিক ৬৩ বিলিয়ন ডলার বা ৭ দশমিক ৯৩ শতাংশ।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, দেশে তৈরি পোশাক খাত বর্তমানে বহুমুখী সংকটের মুখে পড়েছে। বৈশ্বিক সংঘাত, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, ইউরোপীয় বাজারে ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস এবং দেশীয় বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকটের প্রভাবে শিল্পটির উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রমে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। এ ছাড়া চড়া সুদের হারে নতুন বিনিয়োগ কমেছে। দেশের অভ্যন্তরে তীব্র লোডশেডিং, গ্যাস সংকট এবং বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় উৎপাদন কমেছে। যা নতুন করে কাঁচামাল ও মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি ও ব্যাক টু ব্যাক এলসি কমায় প্রভাব ফেলেছে। অপরদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতার কারণে ইউরোপের অনেক ক্রেতা নতুন অধ্যাদেশ কমিয়ে দিয়েছেন। ফলে দেশের পোশাক কারখানাগুলোতে অর্ডার প্রবাহ আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে। অনেক কারখানাই আগের তুলনায় সীমিত সক্ষমতায় পরিচালিত হচ্ছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন বলছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে (জুলাই-মার্চ) শিল্পের কাঁচামাল, মূলধনী যন্ত্রপাতি এবং ভোগ্য পণ্যসহ অন্যান্য পণ্যের আমদানির জন্য এলসি খোলার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫৩ দশমিক ৯৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এ সময় এলসি নিষ্পত্তি করা হয়েছে ৫০ দশমিক ৪৩ বিলিয়ন ডলার। আর ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরের একই সময়ে এসব পণ্যের আমদানির জন্য এলসি খোলা এবং নিষ্পত্তি হয় যথাক্রমে ৫৩ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলার এবং ৫২ দশমিক ৬১ বিলিয়ন ডলার। সেই হিসাবে চলতি বছরে এলসি খোলা বেড়েছে শূন্য দশমিক ৩৫ শতাংশ আর নিষ্পত্তি কমেছে ৪ দশমিক ১৪ শতাংশ।

এ বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং বৈদেশিক বাজারে চাহিদার উঠানামার কারণে এ ধরনের নেতিবাচক প্রবণতা দেখা দিয়েছে। তবে ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি কমে যাওয়ার এই ধারা অব্যাহত থাকলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে চাপ আরও বাড়বে।

বাংলাদেশ একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ডলার সংকট এবং দাম বাড়লে ব্যাংকগুলো এলসি খোলায় সতর্ক হয়। এতে আমদানি কমেছে। উচ্চ সুদহার ও ব্যয় বৃদ্ধির ফলে উৎপাদন খরচ বেড়ে গেলে উদ্যোক্তারা নতুন আমদানি কমিয়ে দেন। বিশ্ববাজারে চাহিদা কমলেও রফতানিও কম এবং কাঁচামালের প্রয়োজন কমে যায়। মূলত রফতানি শিল্পের কাচামাল, মূলধনী যন্ত্রপাতি, পেট্রোলিয়ম এবং ভ্যোগ্য পণ্যসহ অন্যান্য পণ্যের আমদানির জন্য এলসি খোলার পরিমান কমলে ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি কমে যায়। এছাড়া বিশ্ববাজারে চাহিদা কমে যাওয়ায় বিশেষ করে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে পোশাকের অর্ডার কমেছে। ফলে নতুন রফতানি আদেশ না থাকায় ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি খোলার প্রয়োজনও কমে যাচ্ছে।

সারাবাংলা/এসএ/এসআর
বিজ্ঞাপন

আরো

আদিল খান - আরো পড়ুন
সম্পর্কিত খবর