ঢাকা: রাজধানীর বেইলি রোডের গ্রিন কোজি কটেজ ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় অভিযোগপত্রভুক্ত আসামি আমিন মোহাম্মদ ফাউন্ডেশন-এর স্বত্বাধিকারী মো. রমজানুল হক নিহাদসহ দুইজন আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেছেন। অপর আসামি হলেন হাক্কা ঢাকা রেস্টুরেন্টের স্বত্বাধিকারী আদিব আলম।
রোববার (১৭ মে) তারা ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আইনজীবীর মাধ্যমে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর শামসুদ্দোহা সুমন। আদালতে দুপুরে এ বিষয়ে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
এর আগে গত ১৯ এপ্রিল আদালত ভবনের বিভিন্ন রেস্টুরেন্টের মালিকসহ ২২ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন। একই দিন পলাতক ১৩ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। আগামী ১৯ মে তাদের গ্রেপ্তার সংক্রান্ত তামিল শুনানির দিন ধার্য রয়েছে। ওই দিন ২২ আসামির মধ্যে ৯ জন আদালতে উপস্থিত ছিলেন, বাকিরা অনুপস্থিত থাকায় তাদের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হয়।
গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্তদের মধ্যে রয়েছেন আমিন মোহাম্মদ ফাউন্ডেশনের নিহাদ, বিভিন্ন রেস্টুরেন্টের মালিক ও ম্যানেজারসহ মোট ১৩ জন। অপর আসামিরা বর্তমানে জামিনে আছেন।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে সরকারি বিধিনিষেধ অমান্য করে বৈধ অনুমোদন ছাড়া ভবনের ভেতরে একাধিক রেস্টুরেন্ট পরিচালনা করেন। সেখানে গ্যাস সিলিন্ডার ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ব্যবহারের সময় নিরাপত্তা বিধি উপেক্ষা করা হয়, যার ফলে অগ্নিকাণ্ড ঘটে।
২০২৪ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি রাত পৌনে ১০টার দিকে বেইলি রোডের গ্রিন কোজি ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৪৬ জন নিহত হন, আহত হন ১১ জন এবং ৭৫ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় ১ মার্চ রমনা থানায় মামলা করে পুলিশ। মামলায় অবহেলা, অসতর্কতা ও নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের মাধ্যমে প্রাণহানি ঘটানোর অভিযোগ আনা হয়।