Thursday 21 May 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

সাংবাদিকদের ব্যক্তিগত তথ্য কেন চাইছে পুলিশ, জানেন না ঊর্ধ্বতনরা!

উজ্জল জিসান স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
২১ মে ২০২৬ ২২:১৪ | আপডেট: ২১ মে ২০২৬ ২২:১৬

প্রতীকী ছবি।

ঢাকা: রাজধানীতে কর্মরত বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকদের ব্যক্তিগত তথ্য, রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টের তথ্য চেয়ে ফোন করেছে পুলিশ। এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি)। এমনকি কয়েকজন সাংবাদিক ফোনে দুর্ব্যবহার ও অপ্রাসঙ্গিক তথ্য চাওয়ার অভিযোগও উঠেছে। তবে, পুলিশের ওই বিশেষ শাখা বলছে, বিষয়টি মূলত ‘ভুল বোঝাবুঝি’।

জানা গেছে, গত ১৮ থেকে ২০ মে পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার সাংবাদিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন কয়েকজন উপ-পরিদর্শক (এসআই)। ফোনে তারা সাংবাদিকদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), পারিবারিক পরিচয়, রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের লিংকসহ বিভিন্ন তথ্য জানতে চান। এ নিয়ে অনেকের সঙ্গে পুলিশের বাকবিতণ্ডাও হয়। বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিক মহলে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা ।

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিটি এসবির ডিআইজির নম্বরে যোগাযোগ করা হলে ফোন রিসিভ করেন অতিরিক্ত ডিআইজি (অ্যাডমিন)। তিনি বলেন, ‘ডিআইজি বর্তমানে বিদেশে আছেন। তার সরকারি নম্বরটি আমার কাছে রয়েছে।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, “বিষয়টি মূলত ‘ভুল বোঝাবুঝি’ থেকে তৈরি হয়েছে।” তিনি বলেন, ‘আমরা মূলত একটি ডাটাবেজ তৈরির কাজ করছিলাম। সামনে ঈদসহ বিভিন্ন ভিআইপি অনুষ্ঠান রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতিসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের অনুষ্ঠান কাভার করেন—এমন সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিদের তথ্য সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। আমাদের কাছে ১৪১ জনের তালিকা আছে আরও ৯০ জনের তালিকা দরকার ছিল। তবে মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহে নিয়োজিত কিছু কর্মকর্তার আচরণ ভালো না হওয়ায় ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছে।’

তিনি আরও জানান, সমালোচনার জন্য এসব তথ্য সংগ্রহের কাজ আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। এখন আর কোনো তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে না। যা হয়েছে সব ভুল বোঝাবুঝির জন্য।

এর আগে গত ১৮ মে ঢাকা মহানগর পুলিশের পূর্ব বিভাগের সহকারী পুলিশ সুপার মো. কামরুজ্জামান একটি চিঠির মাধ্যমে মতিঝিল, ডেমরা, শ্যামপুর, সূত্রাপুর, পল্টন ও সবুজবাগসহ কয়েকটি এলাকার জোন ইনচার্জদের সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের নির্দেশ দেন। গত ১৪ মে ওপেন সোর্স ইন্টেলিজেন্স শাখা থেকে দেওয়া আগের এক নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে এ চিঠি পাঠানো হয়।

চিঠিতে সাংবাদিকদের নাম-ঠিকানা, শিক্ষাগত যোগ্যতা, রাজনৈতিক পরিচয় বা সংশ্লিষ্টতা, পরিবারের রাজনৈতিক পটভূমি, সাংবাদিকতার বাইরে অন্য কোনো পেশায় যুক্ত আছেন কি না এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টের তথ্য সংগ্রহের কথা বলা হয়। পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে কোনো নেতিবাচক তথ্য থাকলে সেটিও তালিকাভুক্ত করতে বলা হয়। সংক্রান্ত একটি চিঠি সারাবাংলার কাছে রয়েছে।

সিটিএসবি থেকে ফোন পাওয়া সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছে সারাবাংলা ডটনেট। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সভাপতি আবু সালেহ আকন সারাবাংলাকে বলেন, ‘আমাকেও ফোন করা হয়েছিল। আমি ব্যস্ততার কারণে সাক্ষাৎ করিনি। তবে গতকাল ও আজ বিষয়টি শুনে এসবি প্রধানের সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি বলেছেন, এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। এমনকি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকেও ফোন এসেছে। এতে মনে হচ্ছে, সরকারও পুরোপুরি অবগত নয়। তাই আমরা এতটুকু বুঝতে পারছি, এসবিতে লুকিয়ে থাকা ফ্যাসিস্ট আমলের মতো কেউ অপকর্ম করতেই এমন কাজ করেছে।’

ডিআরইউ সভাপতি আরও বলেন, ‘এ ধরনের তথ্য সংগ্রহের বিষয়টি ফ্যাসিস্ট আমলেও দেখা গেছে। গণতান্ত্রিক পরিবেশে এ ধরনের কর্মকাণ্ড গ্রহণযোগ্য নয়। এটি বন্ধ নাহলে সাংবাদিকদের স্বার্থে যা করা দরকার তাই করা হবে।’

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি শহিদুল ইসলাম সারাবাংলাকে বলেন, ‘কোনো গোয়েন্দা সংস্থা সাংবাদিকদের রাজনৈতিক পরিচয় বা ব্যক্তিগত তথ্য এভাবে চাইতে পারে না। সাংবাদিকরা কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মী নন, তারা রাষ্ট্র ও জনগণের জন্য কাজ করেন। এ ধরনের তথ্য চাওয়া অত্যন্ত অগণতান্ত্রিক ও অগ্রহণযোগ্য। সাংবাদিক সমাজ তা মেনে নেবে না।’

তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘কারা, কী উদ্দেশ্যে এসব তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করেছে, তা খতিয়ে দেখা উচিত। সরকারকে বিব্রত করতেই কেউ এমন উদ্যোগ নিয়েছে কি না, সেটিরও তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।’

বিজ্ঞাপন

আরো

উজ্জল জিসান - আরো পড়ুন
সম্পর্কিত খবর