ঢাকা: ব্যাংকের শেয়ারের বিপরীতে লভ্যাংশ ঘোষণায় নতুন কড়াকড়ি আরোপ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে কোনো ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন ২ হাজার কোটি টাকার কম হলে তারা নগদ লভ্যাংশ দিতে পারবে না। এছাড়া নগদ লভ্যাংশ দেওয়ার সক্ষমতা থাকলেও ঘোষিত মোট লভ্যাংশের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত নগদ আকারে বিতরণ করা যাবে।
শনিবার (২৩ মে) বাংলাদেশ ব্যাংকের জারি করা সার্কুলারে এ নির্দেশনা দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ব্যাংক খাতের সার্বিক পরিস্থিতি, আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষা, ব্যাংকগুলোর আর্থিক সক্ষমতা এবং বিনিয়োগকারীদের রিটার্ন বিবেচনায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সার্কুলারে বলা হয়, ২০২৫ সালের ১৩ মার্চ জারি করা ডিওএস সার্কুলার নং-০১ অনুযায়ী লভ্যাংশ বিতরণের জন্য যেসব শর্ত পরিপালনের নির্দেশনা ছিল, সেগুলো বহাল থাকবে। একই সঙ্গে ক্যাপিটাল কনজারভেশন বাফারসহ ন্যূনতম মূলধন সংরক্ষণ হারের ভিত্তিতে নগদ ও স্টক লভ্যাংশ প্রদানের সীমা নির্ধারণের আগের নির্দেশনাও কার্যকর থাকবে।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, সব শর্ত পূরণ করে নগদ লভ্যাংশ দেওয়ার যোগ্য ব্যাংকও ঘোষিত মোট লভ্যাংশের অর্ধেকের বেশি নগদে দিতে পারবে না। বাকি অংশ স্টক লভ্যাংশ বা অন্য উপায়ে সমন্বয় করতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, বর্তমান বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে ব্যাংকগুলোর ভবিষ্যৎ ঝুঁকি মোকাবেলার সক্ষমতা বাড়ানো এবং ব্যাংকিং খাতের মূলধনভিত্তি আরও শক্তিশালী করতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
নতুন এ নির্দেশনা ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত অর্থবছর এবং পরবর্তী বছরগুলোর লভ্যাংশ ঘোষণার ক্ষেত্রে কার্যকর হবে। ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১–এর ৪৫ ধারার ক্ষমতাবলে এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।