সিরাজগঞ্জ: পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত অব্যাহত থাকলেও আগের দিনের তুলনায় যমুনা সেতুতে যানবাহনের চাপ কিছুটা কমেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সেতুটি দিয়ে মোট ৩২ হাজার ৬৪৯টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। আগের দিনের তুলনায় এ সংখ্যা ২ হাজার ৩১৭টি কম বলে জানিয়েছে যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষ।
যমুনা সেতু সাইট অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সেতুর পূর্ব প্রান্ত দিয়ে ১৬ হাজার ৭৫৩টি যানবাহন চলাচল করেছে। এসব যানবাহন থেকে টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৪৯ লাখ ৭ হাজার ১৫০ টাকা। একই সময়ে পশ্চিম প্রান্ত দিয়ে পারাপার হয়েছে ১৫ হাজার ৮৯৬টি যানবাহন। এ খাত থেকে টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৪৭ লাখ ৬২ হাজার ৭৫০ টাকা।
দুই প্রান্ত মিলিয়ে ২৪ ঘণ্টায় মোট টোল আদায়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৬ লাখ ৬৯ হাজার ৯০০ টাকা। ঈদ সামনে রেখে যানবাহনের চাপ বাড়লেও এখন পর্যন্ত সেতু এলাকায় কোনো বড় ধরনের যানজট সৃষ্টি হয়নি বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সাঈদ রেজা বলেন, ঈদযাত্রাকে নির্বিঘ্ন রাখতে সেতুর উভয় প্রান্তে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সার্বক্ষণিক নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি টোল প্লাজাগুলোতেও অতিরিক্ত জনবল নিয়োজিত করা হয়েছে।
সেতু সংশ্লিষ্টরা জানান, ঈদকে কেন্দ্র করে উত্তরাঞ্চলগামী যাত্রীবাহী বাস, ব্যক্তিগত গাড়ি ও পশুবাহী ট্রাকের চাপ বাড়তে শুরু করেছে কয়েকদিন ধরেই। তবে শুক্রবার ও শনিবারের তুলনায় গত ২৪ ঘণ্টায় যানবাহনের সংখ্যা কিছুটা কমেছে। তবুও মহাসড়কে যানবাহনের চাপ স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে অনেক বেশি রয়েছে।
এদিকে যমুনা সেতুর উভয় প্রান্তে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের অতিরিক্ত টহল জোরদার করা হয়েছে। মহাসড়কে যানজট এড়াতে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে ট্রাফিক পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে। বিশেষ করে সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল গোলচত্বর ও সেতুর পশ্চিম সংযোগ মহাসড়কে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
দেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের প্রায় ২২ জেলার মানুষের সড়কপথে যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম যমুনা সেতু। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যাতায়াতের জন্য এসব জেলার অধিকাংশ যানবাহন এ সেতু ব্যবহার করে থাকে। প্রতি বছরের মতো এবারও ঈদুল আজহাকে ঘিরে যমুনা সেতু ও সংযোগ মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বাড়ছে। তবে এখন পর্যন্ত যাত্রীদের যাতায়াত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।