Monday 25 May 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

ঢাবিতে প্রতিবন্ধী ছাত্রকে মারধর, ৩ ছাত্রদল নেতাকে অব্যাহতি

ঢাবি করেস্পন্ডেন্ট
২৫ মে ২০২৬ ২০:২৬

– ছবি : সংগৃহীত

ঢাবি: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) জগন্নাথ হলের দোকানে পা তুলে বসাকে কেন্দ্র করে রুমে গিয়ে এক প্রতিবন্ধী ছাত্রকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদলের তিন নেতার বিরুদ্ধে। পরে ঘটনাটির সিসিটিভি ফুটেজে তাদেরকে রুমে যাওয়ার সত্যতা মিললে তাদেরকে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২৫ মে) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ৩ নেতাকে অব্যহতি দেয়া হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, “বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্ত মোতাবেক দায়িত্বশীল পদে আসীন থেকে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল শাখার যুগ্ম-আহবায়ক চন্দন দাস, যুগ্ম-আহবায়ক ঝলক দাস এবং যুগ্ম-আহবায়ক রিপন চন্দ্র সরকারকে তাঁদের সাংগঠনিক পদ থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হলো।”

বিজ্ঞাপন

এর আগে গত রবিবার (২৪ মে) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের দোকানে পা তুলে বসায় ছাত্রদলের এ তিন নেতার সাথে কথা কাটাকাটি হয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ঐ হলের আবাসিক শিক্ষার্থী অভয় কুমার সিংহ।

সোমবার এক ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন, “রোববার সন্ধ্যার সময় রবীন্দ্র ভবনের নিচে মনশ্রী হালদার চায়ের দোকানে পা তুলে বসে থাকার মতো একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঝলক দাস (২০২১-২২ জাপানিজ স্টাডিজ), চন্দন (২০২০-২১ ফ্রেঞ্চ ল্যাংগুয়েজ), রিপন (২০২১-২২ মার্কেটিং বিভাগ ) ও সাগর (২০২১-২২ ম্যানেজমেন্ট বিভাগ ) আমার রুমে এসে আমাকে সংঘবদ্ধভাবে মারধর করেছে”।

তিনি অভিযোগ করেন, “শুরুতে আমি যখন চায়ের দোকানে বসে ছিলাম, তখন কেউ না থাকায় আমি পা তুলে বসে ছিলাম হাঁটুতে সমস্যা থাকার কারণে। তখন চন্দন নামের এক ছেলে আর ঝলক দোকানে ঢুকে বসে। আমি পা তুলে দেওয়ার পরেও অনেক জায়গা থাকায় তারা ঠিকভাবেই বসতে পারে। পরবর্তীতে চন্দন নামের ছেলেটা আমাকে বলে পা নিচে নামিয়ে বসতে, এটা পা ওপরে তোলার জায়গা না, নিজের রুমে গিয়ে পা তুলে বস ইত্যাদি কথা বলে। পরে অপর পায়ে বেশি সমস্যা থাকায় আমি একটি পা নিচে নামিয়ে রাখি।

“ঝলকের (অভিযুক্ত) সাথে দোকানে আমার কোনও কথাই হয়নি। পরবর্তীতে আমি আমার রুমে এসে আনন্দ বাজার যাই। আসার পর আমি রুমে ঢোকা মাত্রই চন্দন, ঝলক দাশ, রিপন, সৌরভ এই চারজন রুমে এসে আমার ওপর শারীরিক নির্যাতন করে, থাপ্পড় মারে। এছাড়াও হুমকি দিয়েছে, যাতে আমাকে আর চায়ের দোকানের দিকে দেখা না যায়, নিচে যাতে দেখা না যায়।”

এ ঘটনার বিচার দাবি করে তিনি লিখেন, একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর রুমে গিয়ে এভাবে হামলা করা শুধু অমানবিকই নয়, এটি জগন্নাথ হলের মানবিক পরিবেশের জন্যও অত্যন্ত লজ্জাজনক।”

এছাড়া, গতকালের এ ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজে এ অভিযুক্ত চার শিক্ষার্থীকে অভয় কুমার সিংহের রুমে যাওয়ার সত্যতা পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে জানতে জগন্নাথ হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক দেবাশীষ পালের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমার কাছে গতকাল অভিযোগ এসেছে। আমি ইতোমধ্যেই তদন্ত কমিটি গঠন করে দিয়েছি। আশা করি দুই-তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।”