Thursday 28 May 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

রাজধানীকে কোরবানির বর্জ্যমুক্ত রাখতে দুই সিটির মেগা অভিযান শুরু

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
২৮ মে ২০২৬ ১৬:১৩ | আপডেট: ২৮ মে ২০২৬ ১৬:১৪

-ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা: পবিত্র ঈদুল আজহার আনন্দের সঙ্গে যেন বর্জ্যের দুর্গন্ধ ও পরিবেশ দূষণ নগরবাসীর ভোগান্তির কারণ না হয়ে দাঁড়ায়, সেজন্য ঈদের দিন দুপুর থেকেই পুরোদমে মাঠে নেমেছে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন। উৎসবের দিনেই রাজধানীকে সম্পূর্ণ পরিচ্ছন্ন ও জীবাণুমুক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে এবার ব্যাপক জনবল, আধুনিক যানবাহন এবং সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৮ মে) দুপুরের পর থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন অলিতে-গলিতে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ব্যস্ততা চোখে পড়ার মতো। কোথাও দ্রুত গতিতে ট্রাকে বর্জ্য লোড করা হচ্ছে, আবার কোথাও রক্ত ও ময়লা পরিষ্কার করে ছিটানো হচ্ছে ব্লিচিং পাউডার ও তরল জীবাণুনাশক। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) দুপুর দেড়টা থেকে কলাবাগান সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলের উদ্দেশ্যে বর্জ্য পরিবহন শুরু করেছে এবং প্রথম দিনের সব ময়লা রাতের মধ্যেই সরিয়ে ফেলার লক্ষ্য নিয়েছে। অন্যদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) সরকারের বেঁধে দেওয়া ১২ ঘণ্টার আগেই পুরো এলাকা বর্জ্যমুক্ত করতে শতভাগ প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করছে।

বিজ্ঞাপন

জানা গেছে, এবারের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পরিধি ও প্রস্তুতি বিগত বছরগুলোর চেয়ে অনেক বড়। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন -ডিএসসিসির নগর ভবনে আয়োজিত এক বিশেষ সভায় জানানো হয়, ঈদের তিন দিনে দক্ষিণ ঢাকাতেই প্রায় ৩৪ হাজার টন বর্জ্য তৈরি হতে পারে। এই বিশাল পরিমাণ বর্জ্য সরাতে সাড়ে ১৩ হাজার কর্মী এবং দুই হাজারেরও বেশি ভারী যান-যন্ত্রপাতি নিয়োজিত করা হয়েছে। এছাড়া পরিবেশ সুরক্ষায় ৭৫টি ওয়ার্ডে ৪৬ টন ব্লিচিং পাউডার, প্রচুর স্যাভলন ও পৌনে দুই লাখের মতো পচনশীল ব্যাগ বিতরণ করা হয়েছে। ওই সভায় স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং ডিএসসিসি প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়নের ওপর জোর দেন এবং কর্মকর্তাদের সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেন। প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বর্তমান প্রশাসনিক কাঠামোর কারণে নাগরিক সেবা ও বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রমে আগের চেয়ে অনেক বেশি গতি এসেছে।

একইভাবে উত্তর ঢাকা পরিষ্কার রাখতে গুলশান নগর ভবনে ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে বিশেষ প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে জানানো হয়, উত্তর সিটির বর্জ্য আমিনবাজার ল্যান্ডফিলে ডাম্পিংয়ের জন্য সাড়ে সাতশো ট্রাক এবং ১৬ হাজার পরিচ্ছন্নতাকর্মী একযোগে কাজ করছেন। কাজ দ্রুত করার সুবিধার্থে আমিনবাজারে নতুন সংযোগ সড়ক ও বিশেষ প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হয়েছে। এমনকি বর্জ্যবাহী গাড়ির যাতায়াত ডিজিটাল পদ্ধতিতে রিয়েল-টাইম মনিটরিং করা হচ্ছে। ডিএনসিসি নগরবাসীকে ১৬ লক্ষাধিক পলিব্যাগ দেওয়ার পাশাপাশি হাজার হাজার বস্তা ব্লিচিং পাউডার, ফিনাইল ও স্যাভলন সরবরাহ করেছে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর