Friday 29 May 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

চিড়িয়াখানায় রাজকীয় হালে দিন কাটছে ‘ট্রাম্প’র

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
২৯ মে ২০২৬ ১৯:২২

চিড়িয়াখানায় তুমুল সাড়া জাগানো বিরল প্রজাতির সাদা মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’। ছবি: সারাবাংলা

ঢাকা: কোরবানির আনুষ্ঠানিকতা শেষে ঈদের দ্বিতীয় দিনে বিনোদনের খোঁজে মিরপুর জাতীয় চিড়িয়াখানাতে ভিড় করছেন অসংখ্য দর্শনার্থী। ঈদের পরের এই ছুটিতে রাজধানী ও এর আশপাশের অঞ্চলের মানুষের বিনোদনে বাড়তি মাত্রা যোগ করেছে এক নতুন অতিথি। চিড়িয়াখানার প্রথাগত বাঘ, সিংহ বা হরিণ নয়, এবারের ঈদের ছুটিতে দর্শনার্থীদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে তুমুল সাড়া জাগানো বিরল প্রজাতির সাদা মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’। চিড়িয়াখানার এল-০৭ নম্বর খাঁচার সামনে তাই সকাল থেকেই উৎসুক জনতার উপচে পড়া ভিড়।

খুব আগ্রহ নিয়ে সব বয়সি মানুষ দেখছেন ট্রাম্পকে। এই ট্রাম্পকে নিয়ে মানুষের কৌতুহলের কোনো শেষ নেই। কেন কোরবানি দেওয়া হলো না? আসলেই কি ট্রাম্পের সঙ্গে চেহারার মিল আছে? মহিষটি খায় কি?- এমন নানা প্রশ্ন কৌতুহলী দর্শনার্থীদের। চিড়িয়াখানায় পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা আব্দুস সালাম সারাবাংলাকে বলেন, ‘কোরবানির ব্যস্ততা শেষ করে আজ ঈদের দ্বিতীয় দিনে চিড়িয়াখানায় এলাম। ফেসবুক-ইউটিউবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভিডিও দেখে এটি সামনাসামনি দেখার খুব আগ্রহ ছিল। কোরবানি না দিয়ে এটিকে চিড়িয়াখানায় রাখায় খুব ভালো হয়েছে, আমাদের ঈদের আনন্দের মাত্রাটা আরও বেড়ে গেল।’

বিজ্ঞাপন

এদিকে বাবার হাত ধরে মহিষটিকে দেখতে আসা আট বছর বয়সী শিশু নাহিদ সারাবাংলার এই প্রতিবেদকে অত্যন্ত আনন্দিত কণ্ঠে বলে, ‘আমি টিভিতে এই মহিষটার লাল গালিচা বিদায় দেখেছিলাম। তখন থেকেই আম্মুকে বলছিলাম এটা দেখব। আজ সামনে থেকে দেখে খুব ভালো লাগছে। এর মাথার চুলগুলো একদম কার্টুনের মতো সুন্দর।’

এদিকে ৫ বছরের আরেক শিশু ইরাম এই ট্রাম্পকে দেখে খুব এ হতাশ। কারণ হিসেবে বলছে, ‘আম্মু বলেছে ট্রাম্পকে দেখতে আসবে, কিন্তু এইখানে এসে দেখি এটা তো মহিষ।’ শিশুসুলভ আচরণে ইরাম বলছিল, ‘আমার এই ট্রাম্পকে একদম পছন্দ হয়নি। আর এত দূরে রেখেছে যে, আমি ঠিক মতো দেখতেই পাইনি।’

সাদা মহিষটি ‘ট্রাম্পকে’ এত দূরে রাখা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন অনেকেই। সাজ্জাদ হোসেন নামের এক দর্শনার্থী সারাবাংলাকে বলেন, ‘ভাইরাল এই ট্রামকে দেখার জন্যই এসেছি। কিন্তু, এত দূরে না রেখে আরও একটু কাছাকাছি জায়গায় রাখলে ভালো হতো ।’

চিড়িয়াখানায় তুমুল সাড়া জাগানো ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’কে দেখতে মানুষের উপচে পড়া ভিড় । ছবি: সারাবাংলা

চিড়িয়াখানায় তুমুল সাড়া জাগানো ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’কে দেখতে মানুষের উপচে পড়া ভিড় । ছবি: সারাবাংলা

খাঁচার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা আরেক প্রবীণ দর্শনার্থী জামান সারাবাংলাকে বলেন, ‘আমরা তো সচরাচর কালো মহিষ দেখেই অভ্যস্ত। এমন গোলাপি-সাদা রঙের মহিষ জীবনে এই প্রথম দেখলাম। সরকারের এই সিদ্ধান্ত প্রশংসনীয়। এটি কোরবানি হয়ে গেলে এক নিমেষেই শেষ হয়ে যেত। কিন্তু, চিড়িয়াখানায় আসায় এখন হাজার হাজার মানুষ এই বিরল প্রাণীটি দেখার সুযোগ পাচ্ছে।’

এদিকে অতিরিক্ত গরমে বার বার সাদা এই মহিষকে গায়ে পানি দিয়ে তাপমাত্রা সমন্বয়ের চেষ্টা করছে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ জানায়, দীর্ঘ ভ্রমণের কারণে প্রাণীটির শরীরে সামান্য আঁচড় লাগলেও প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে এটি এখন সম্পূর্ণ সুস্থ। প্রাণীটি নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। তাই বিশেষ যত্ন নেয়া হচ্ছে। এ ছাড়া দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে খাঁচার সামনে অতিরিক্ত রক্ষী ও ট্যুরিস্ট পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বভাবসুলভ সোনালি চুল, চোখের গঠন আর অদ্ভুত চেহারার অবয়বের সঙ্গে মিল থাকায় খামারিরা আদর করে এই অ্যালবিনো জাতের মহিষটির নাম রেখেছিলেন ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’। প্রায় ৭০০ কেজি ওজনের এই বিরল মহিষটির ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা দেশীয় গণ্ডি পেরিয়ে রয়টার্স, এএফপি, দ্য টেলিগ্রাফের মতো আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও বেশ সাড়া ফেলে।

কোরবানির ঈদের ঠিক আগে এক ক্রেতা এটিকে জমকালো লাল গালিচা সংবর্ধনার মাধ্যমে নিজের বাড়িতে নিয়ে গেলেও, দেশের এই বিরল সম্পদটি রক্ষার্থে শেষ মুহূর্তে স্বরাষ্ট্র ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপে সেটিকে সরকারি হেফাজতে নিয়ে মিরপুর চিড়িয়াখানায় স্থানান্তর করা হয়। চিড়িয়াখানার খাঁচার সামনে ঝুলিয়ে দেওয়া পরিচিতি বোর্ডে ‘সাদা মহিষ (ডোনাল্ড ট্রাম্প)’ নাম দেখে দর্শনার্থীরা বেশ কৌতুক বোধ করছেন। অনেকেই দূর থেকে মহিষটির মাথার চুল আর মুখের গড়ন দেখে মন্তব্য করছেন, সত্যিই এর সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্টের অবয়বের কিছুটা মিল আছে।

‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ নামের অবিকল মার্কিন নেতার অবয়ব ধারণ করা এই প্রাণীটি যে আগামী দিনগুলোতেও মিরপুর চিড়িয়াখানার প্রধানতম আকর্ষণ এবং রাজস্ব আয়ের বড় উৎস হয়ে থাকবে, তা এখন স্পষ্ট।