Saturday 30 May 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

জিয়ার ঘোষণা মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার অনুপ্রেরণা জোগায়: রিজভী

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
৩০ মে ২০২৬ ১৪:৫৬

– ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা: বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় রাজনৈতিক নেতৃত্বের সংকটময় মুহূর্তে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে জাতিকে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিলেন।

শনিবার (৩০ মে) হাইকোর্টের সামনে জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাৎবার্ষিকী উপলক্ষে অসহায় ও দুস্থ মানুষের মধ্যে বস্ত্র ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ১৯৭১ সালের সেই সংকটময় সময়ে দেশের মানুষ স্বাধীনতার জন্য প্রস্তুত ছিল। চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়ার পর ছাত্র, শ্রমিক, কৃষক ও সাধারণ মানুষ দলে দলে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়।

বিজ্ঞাপন

‘শেখ হাসিনা কিছু মানতে চান না’- এমন অভিযোগ করে রিজভী বলেন, শেখ হাসিনা শুধু ক্ষমতা চান। শুধু দেশের মানুষের টাকা পাচার করতে চান। কিন্তু রাজনীতির যে সত্য ইতিহাস, ন্যায়ের ইতিহাস, সবার কাছে স্বীকৃত ইতিহাস, সেই ইতিহাসকে তিনি দুমরে, মুচরে বিকৃত করার চেষ্টা করেছেন। স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন জিয়াউর রহমান। জিয়াউর রহমানের কৃতি যদি বর্ণনা করা হয়, তাহলে শেখ মুজিবের একটু ছায়া পড়ে যায়। এই কারণে বলতে চান না। প্রবাসী সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজ উদ্দীন সাহেবের নাম বলতে গেলেও শেখ মুজিবের ওপরে ছায়া পড়ে যায়। সেজন্য শেখ হাসিনার তাজ উদ্দীন সম্পর্কে কিছু বলতেন না। তাজ উদ্দীনকে ছোট করে দেখাতেন। জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করতেন, কুৎসা রটাতেন। তার সহধর্মীনিকে (বেগম খালেদা জিয়া) মিথ্যা মামলায় দিনের পর দিন কারাগারে বন্দি করে রেখেছেন।

বিএনপির এই নেতা বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সংকট তৈরি হয়। সেই পরিস্থিতিতে ৭ নভেম্বরের ঘটনাপ্রবাহের মধ্য দিয়ে জনগণ ও সেনাসদস্যদের সমর্থনে জিয়াউর রহমান জাতীয় নেতৃত্বে আসেন এবং দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন। জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তন করেন, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেন এবং সব রাজনৈতিক দলের জন্য রাজনীতির সুযোগ সৃষ্টি করেন।

তার শাসনামলে অর্থনৈতিক পুনর্গঠন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, খাল খনন কর্মসূচি, প্রবাসী শ্রমবাজার সম্প্রসারণ এবং বৈদেশিক কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি নতুন গতি পায়।

রিজভী বলেন, যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশকে স্বনির্ভরতার পথে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে জিয়াউর রহমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। দেশের কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়নে তার নানা উদ্যোগ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে অবদান রেখেছে।

অনুষ্ঠানে অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল, বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মো. আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়াসহ দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। পরে অসহায় ও দুস্থ মানুষের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী ও বস্ত্র বিতরণ করা হয়।

সারাবাংলা/এমএমএইচ/এসআর
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর