Monday 01 Jun 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

আমার স্ত্রী নির্দোষ: আদালতে রামিসা হত্যার আসামি সোহেল

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
১ জুন ২০২৬ ১৩:৩৬

শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা – ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা: নিজের  স্ত্রী স্বপ্না আক্তার-কে ‘নির্দোষ’ বলে দাবি করেছে শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা।

সোমবার (১ জুন) সকালে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অভিযোগ পড়ে শোনানোর সময় সে এমন দাবি করে।

এদিন সকাল সাড়ে ৭টার দিকে আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আদালতে হাজির করা হয়। কয়েক ঘণ্টা পর এজলাসে তোলা হয়। শুনানি শেষে রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় সোহেল রানা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগ (চার্জ) গঠনের আদেশ দেন আদালত। সেইসঙ্গে আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে সাক্ষ্যগ্রহণের কথাও জানানো হয়।

বিজ্ঞাপন

এদিকে, দুই আসামিকে অভিযোগ পড়ে শোনানো হয়। প্রথমে সোহেল রানাকে অভিযোগ পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী। তিনি বলেন, এই অভিযোগ মোতাবেক শাস্তি মৃত্যুদণ্ড অথবা যাবজ্জীবন।

তখন সোহেল রানা বলে, ‘আমার কিছু বলার আছে।’

তবে বিচারক সুযোগ দেন না।

একইভাবে স্বপ্নাকে অভিযোগ পড়ে শোনালে তিনি কাঠগড়ায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। তখন হাউমাউ করে কাঁদতে কাঁদতে সোহেল রানাকে বলেন, ‘আপনি কন্ আমি কিছু করছি?

তখন সোহেল রানা বিচারককে বলেন, ‘আমার স্ত্রী নির্দোষ’।

আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে অভিযুক্ত করে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চার্জশিট জমা দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হকের আদালত চার্জশিট গ্রহণ করে মামলাটি শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ঢাকা মহানগর শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত গত ২৪ মে অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে শুনানির জন্য ১ জুন ধার্য করেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, রামিসা পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঘর থেকে বের হলে স্বপ্না তাকে কৌশলে রুমের ভেতরে নেয়। ওইদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন তার মা। এক পর্যায়ে আসামির ঘরের সামনে শিশুটির একটি স্যান্ডেল পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। ডাকাডাকির পর কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে রামিসার বাবা-মা এবং অন্যান্য ফ্ল্যাটের লোকজন দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। দেখতে পান সোহেল রানার শোবার ঘরের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ এবং মাথা বাথরুমের ভেতরে একটি বড় বালতির মধ্যে পড়ে রয়েছে।

জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এর মাধ্যমে কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মরদেহ উদ্ধারের পর স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার সামনে থেকে সোহেল রানাকে গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনায় রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা করেন।