Sunday 07 Jun 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

রামিসা হত্যা মামলা: আদালতে হাজির আসামি সোহেল ও তার স্ত্রী স্বপ্না

স্টাফ করেসপন্ডেট
৭ জুন ২০২৬ ০৯:৪৩ | আপডেট: ৭ জুন ২০২৬ ০৯:৫৫

রামিশা হত্যা মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা ও আরেক আসামি তার স্ত্রী স্বপ্নাকে আদালতে হাজির করা হয়েছে।

ঢাকা: ঢাকার মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা ও আসামি স্বপ্না আক্তারকে আদালতে হাজির করা হয়েছে।

রোববার (৭ জুন) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে করে স্বপ্নাকে ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে আনা হয় এবং সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে করে সোহেল রানাকে আদালত প্রাঙ্গণে আনা হয়। পরে তাকে আদালতের হাজতখানায় নেওয়া হয়।

আজ বহুল আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করবেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।

বিজ্ঞাপন

এর আগে গত ৪ জুন রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত রায়ের জন্য ৭ জুন দিন ধার্য করেন। মাত্র চার কার্যদিবসের মধ্যেই মামলার বিচারকাজ সম্পন্ন হওয়ায় বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

রায়কে কেন্দ্র করে আদালত প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি সাদা পোশাকে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদেরও তৎপর থাকতে দেখা গেছে।

মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১ জুন সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। পরদিন ২ জুন সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ করা হয় ওই দিনই। পরে ৩ জুন আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানিতে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন আসামিরা। সবমিলিয়ে মাত্র চার কার্যদিবসে মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার সম্পন্ন হয়।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, রামিসা আক্তার পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বাসা থেকে বের হলে তাকে কৌশলে নিজের কক্ষে নিয়ে যান স্বপ্না। পরে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মেয়েকে স্কুলে পাঠানোর জন্য খোঁজাখুঁজি শুরু করেন তার মা।

একপর্যায়ে আসামিদের কক্ষের সামনে রামিসার জুতা দেখতে পেয়ে সন্দেহ হয় পরিবারের সদস্যদের। বারবার ডাকাডাকির পরও কোনো সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে তারা শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ দেখতে পান। পরে কক্ষের ভেতরে থাকা একটি বড় বালতির মধ্যে শিশুটির বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধার করা হয়।

খবর পেয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেফতার করা হয়।

এ ঘটনায় ২০ মে পল্লবী থানায় নিহত শিশুর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা মামলা দায়ের করেন। মামলাটির রায় নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে এবং ভুক্তভোগী পরিবারসহ সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, অপরাধ প্রমাণিত হলে আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।

সারাবাংলা/টিএম/এনজে
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর