ঢাকা: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, পৃথিবীর কোনো সংবিধানই নিখুঁত নয় এবং প্রতিটি সংবিধানের মধ্যেই ভালো ও মন্দ উভয় দিকই বিদ্যমান থাকে। ১৯৭২ সালের সংবিধান নিয়ে আমাদের সমাজে এক ধরণের অতিকথন প্রচলিত রয়েছে। অনেকের কাছে এটি যেমন বেদবাক্য হিসেবে গণ্য, আবার অনেকের কাছে এটি ছুঁড়ে ফেলে দেওয়ার মতো বিষয়।
সোমবার (৮ মার্চ) দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, সংবিধান নিজে কখনো কোনো পাপ করতে পারে না। তিনি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন যে, একই সংবিধানের অধীনে ভারতে ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের মানুষ দেশ শাসন করছেন। অন্যদিকে, অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় কোনো দেশের সংবিধান খুব উন্নত হলেও রাজনৈতিক সংস্কৃতি বা নেতৃত্বের অভাবে রাষ্ট্র ব্যর্থ হচ্ছে। আবার সংবিধানহীন রাষ্ট্রও সুশাসনের উদাহরণ সৃষ্টি করতে পারে।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রের সাফল্য বা ব্যর্থতার পেছনে শুধু সংবিধান নয়, বরং রাজনৈতিক সংস্কৃতি, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান এবং নেতৃত্বের ভূমিকা সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাই আবেগতাড়িত না হয়ে ১৯৭২ সালের সংবিধান এবং রাষ্ট্রনির্মাণে এর ভূমিকা নিয়ে নির্মোহ পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, এই পর্যালোচনা করতে হলে সংবিধান প্রণীত হওয়ার সময়কার গণপরিষদের কর্মকাণ্ড এবং রাষ্ট্রচিন্তা সম্পর্কে গভীর জানাশোনা প্রয়োজন। সদ্যস্বাধীন দেশে কী বিবেচনায়, কোন প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে সংবিধানে বিভিন্ন বিধান যুক্ত করা হয়েছিল, তা বোঝা জরুরি। নিজের লেখা ‘সংবিধান বিতর্ক ১৯৭২’ বইটি সেই তাড়না থেকেই তিনি লিখেছিলেন বলে জানান। দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে বইটির দ্বাদশ মুদ্রণ প্রকাশের বিষয়টি তাকে আনন্দ দেয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।