ঢাকা: মাগুরার বহুল আলোচিত শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন (ডেথ রেফারেন্স) ও আপিল শুনানির পথ আরও একধাপ এগিয়েছে। মামলার পেপারবুক প্রস্তুত হয়ে সোমবার (৮ জুন) হাইকোর্টের ডেথ রেফারেন্স শাখায় পৌঁছেছে।
ডেথ রেফারেন্স শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত এক কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আনুষঙ্গিক কার্যক্রম শেষ হলে মামলাটি শুনানির জন্য হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চে উপস্থাপন করা হবে।
অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল জানিয়েছেন, নারী ও শিশু নির্যাতনসংক্রান্ত মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে প্রধান বিচারপতি একটি বিশেষ বেঞ্চ গঠন করবেন। ওই বেঞ্চেই শিশু আছিয়া ও রামিসা হত্যা-ধর্ষণের মতো আলোচিত মামলাগুলোর শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত বছরের ১৭ মে মাগুরা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে শিশুটির বোনের শ্বশুর হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। একই মামলার অপর তিন আসামিকে খালাস দেন আদালত। পরে মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য বিচারিক আদালতের রায় ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র গত বছরের ২১ মে হাইকোর্টে পাঠানো হয় এবং তা ডেথ রেফারেন্স মামলা হিসেবে নিবন্ধিত হয়।
বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী, কোনো আসামির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আগে হাইকোর্টের অনুমোদন বাধ্যতামূলক। এ প্রক্রিয়াকে ডেথ রেফারেন্স বলা হয়। একই সঙ্গে দণ্ডিত ব্যক্তি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জেল আপিল, নিয়মিত আপিল কিংবা অন্যান্য আবেদন করার সুযোগ পান।
হিটু শেখ বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে গত বছরের ২৫ জুন হাইকোর্টে আপিল করেন। পরবর্তীতে ১ জুলাই হাইকোর্ট তার আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেন এবং বিচারিক আদালতের আরোপিত অর্থদণ্ড স্থগিত করেন।
সাধারণত ডেথ রেফারেন্স, জেল আপিল, নিয়মিত আপিল এবং অন্যান্য আবেদন একসঙ্গে শুনানি করা হয়। এসব শুনানির পূর্বপ্রস্তুতির অংশ হিসেবে পেপারবুক তৈরি করা হয়, যেখানে মামলার এজাহার, অভিযোগ গঠন, সাক্ষীদের জবানবন্দি, প্রমাণাদি এবং বিচারিক আদালতের পূর্ণাঙ্গ রায় সংযুক্ত থাকে।
বর্তমানে মামলাটির শুনানির জন্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পর প্রধান বিচারপতি বেঞ্চ নির্ধারণ করে দিলে হাইকোর্টে মামলার শুনানি শুরু হবে।