ঢাকা: দেশের কুটির, অতি ক্ষুদ্র এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতে চলতি মূলধনের সংকট দূর করতে ৫ হাজার কোটি টাকার একটি নতুন পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
সোমবার (৮ জুন) এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস ডিপার্টমেন্ট থেকে জারি করা এক সার্কুলারে এ তথ্য জানানো হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, দেশের অর্থনীতিতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং আমদানি বিকল্প পণ্য ও সেবা উৎপাদনে সিএমএসএমই খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও চলতি মূলধনের ঘাটতির কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান পূর্ণ সক্ষমতায় কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছে না। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যাংকগুলোর উদ্বৃত্ত তারল্যের অর্থ ব্যবহার করে নতুন এ তহবিল গঠন করা হয়েছে।
সার্কুলার অনুযায়ী, ‘সিএমএসএমই খাতে চলতি মূলধন পুনঃঅর্থায়ন তহবিল’ নামে গঠিত এই তহবিলের আকার ৫ হাজার কোটি টাকা। এটি একটি রিভলভিং (Revolving) বা আবর্তনশীল তহবিল, ফলে আদায় হওয়া অর্থ পুনরায় ঋণ হিসেবে বিতরণ করা যাবে। তহবিলটির মেয়াদ হবে সার্কুলার জারির তারিখ থেকে তিন বছর।
এই তহবিলের আওতায় কেবল সিএমএসএমই উদ্যোক্তাদের চলতি মূলধন ঋণ বা বিনিয়োগ দেওয়া হবে। লক্ষ্য হচ্ছে, অর্থসংকটে থাকা কিন্তু কার্যক্রম সচল সিএমএসএমই প্রতিষ্ঠানগুলোকে পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন, সেবা ও ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ করে দেওয়া।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মতে, এর মাধ্যমে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থান বাড়বে এবং অর্থনীতির গতিশীলতা জোরদার হবে।
তহবিল থেকে পুনঃঅর্থায়ন নেওয়া ব্যাংকগুলোকে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ৪ শতাংশ হারে সুদ বা মুনাফা দিতে হবে। এ সুদ ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে পরিশোধ করতে হবে।
অন্যদিকে গ্রাহক পর্যায়ে ঋণ বা বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সুদ বা মুনাফার হার ৯ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। এর বেশি হারে কোনো ব্যাংক অর্থায়ন করতে পারবে না।
ইসলামী শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক ও ইসলামী ব্যাংকিং উইন্ডোর মাধ্যমে পরিচালিত বিনিয়োগও এই তহবিলের আওতায় আসবে।
ঋণগ্রহীতারা সর্বোচ্চ তিন বা ছয় মাসের গ্রেস পিরিয়ড পাবেন। অর্থাৎ নির্ধারিত সময় পর্যন্ত কিস্তি পরিশোধে ছাড় থাকবে। তবে গ্রেস পিরিয়ড শেষ হওয়ার পর নিয়মিত কিস্তি পরিশোধ শুরু করতে হবে।
সার্কুলারে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত ‘শিডিউল অব চার্জেস’-এর বাইরে গ্রাহকের কাছ থেকে অতিরিক্ত কোনো ফি বা চার্জ আদায় করা যাবে না।
এই তহবিলের অর্থ পাওয়ার জন্য প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম সচল থাকতে হবে। বিশেষ করে যেসব সিএমএসএমই প্রতিষ্ঠান কার্যকর ব্যবসা পরিচালনা করছে কিন্তু চলতি মূলধনের অভাবে পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন বা সেবা দিতে পারছে না, তারা অগ্রাধিকার পাবে।
তবে সিআইবি-তে খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত কোনো ঋণগ্রহীতা এই তহবিলের আওতায় অর্থায়নের জন্য যোগ্য বিবেচিত হবে না।
বাংলাদেশে কার্যরত সব তফসিলি ব্যাংক এ তহবিল থেকে পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা নিতে পারবে। তবে যেসব ব্যাংকের ঋণ-আমানত অনুপাত ৭০ শতাংশের বেশি, সেসব ব্যাংককে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
এ জন্য ব্যাংকগুলোকে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে একটি অংশগ্রহণ চুক্তি সই করতে হবে। চুক্তিবদ্ধ ব্যাংকগুলোকে ‘অংশগ্রহণকারী আর্থিক প্রতিষ্ঠান’ হিসেবে গণ্য করা হবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উচ্চ সুদের হার, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং ব্যাংক ঋণপ্রাপ্তির জটিলতার কারণে সাম্প্রতিক সময়ে সিএমএসএমই খাতের অনেক উদ্যোক্তা মূলধন সংকটে পড়েছেন। নতুন পুনঃঅর্থায়ন তহবিলের মাধ্যমে তুলনামূলক কম খরচে অর্থায়ন পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রত্যাশা, এই তহবিলের অর্থ দ্রুত বিতরণ করা গেলে উৎপাদন বৃদ্ধি, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতের পুনরুদ্ধারে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।