Friday 12 Jun 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়লে দুর্নীতি কমবে: অর্থমন্ত্রী


১২ জুন ২০২৬ ১৬:৩১ | আপডেট: ১২ জুন ২০২৬ ১৭:৩০

শুক্রবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ২০২৬-২৭ বা‌জে‌টোত্তর সংবাদ স‌ম্মেল‌নে বক্তব্য রাখছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী – ছবি : সারাবাংলা

ঢাকা: সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাত্রার ব্যয় ও বর্তমান বেতনের মধ্যে বড় ধরনের অসামঞ্জস্য তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু বলেন, কর্মচারীদের আর্থিক চাপ কমানো গেলে দুর্নীতির প্রবণতা হ্রাস পা‌বে।

শুক্রবার (১২ জুন ) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এক বা‌জে‌টোত্তর সংবাদ স‌ম্মেল‌নে তি‌নি এ কথা ব‌লেন।

মন্ত্রী বলেন, গত প্রায় ১১ বছর ধরে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন কোনো পে-স্কেল ঘোষণা করা হয়নি। এ সময়ে দেশে মূল্যস্ফীতি ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে বর্তমান বেতন কাঠামো অনেক কর্মচারীর জন্য জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণে সংকট তৈরি হলে নানা ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের ঝুঁকি বাড়ে। বিপরীতে, আর্থিক স্বস্তি ও জীবনযাত্রার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে দুর্নীতির প্রবণতা স্বাভাবিকভাবেই কমে আসে। তাই সরকারি কর্মচারীদের বেতন কাঠামো ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের মধ্যে বিদ্যমান ব্যবধান দূর করার প্রয়োজন রয়েছে।

আলোচনায় মূল্যস্ফীতির কারণ হিসেবেও কয়েকটি বিষয় তুলে ধরা হয়। অর্থমন্ত্রীর ম‌তে, বিগত কয়েক বছর ধরে মূল্যস্ফীতি উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত, বিশ্ববাজারে আমদানিনির্ভর পণ্যের দাম বৃদ্ধি, ব্যাংক খাতে মূলধন ঘাটতি এবং খেলাপি ঋণের কারণে তহবিলের ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সামগ্রিক অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, দেশে ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় কমাতে প্রশাসনিক সংস্কার জরুরি। একটি ব্যবসা শুরু করতে বিভিন্ন দফতরের অনুমোদন ও দীর্ঘসূত্রতার কারণে অনেক সময় ছয় মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত সময় লেগে যায়। এসব জটিলতা কমানো গেলে উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যয় কমবে, যা মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণেও সহায়ক হবে।

বাজার ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে কেবল অভিযান চালিয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। কার্যকর নীতি, দক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং বন্দর কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা গেলে ব্যবসার ব্যয় কমবে এবং ভোক্তারাও এর সুফল পাবেন।

একই সঙ্গে জ্বালানি, খাদ্য ও সারের মতো গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সংগ্রহ পরিকল্পনা ও পর্যাপ্ত বাফার স্টক গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। তার মতে, জরুরি মুহূর্তে তাৎক্ষণিক ক্রয়ের পরিবর্তে আগাম পরিকল্পনা থাকলে ব্যয় নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে এবং সরবরাহ ব্যবস্থাও আরও স্থিতিশীল থাকবে।

সারাবাংলা/এসএ/এসআর

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর