Sunday 14 June 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

রামিসা হত্যা মামলায় ২ আসামির জেল আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ

স্টাফ করেসপন্ডেট
১৪ জুন ২০২৬ ১৩:৩৪ | আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬ ১৪:০৪

রামিসা হত্যাকাণ্ডে গ্রেফতার সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুন। ইনসেটে শিশু রামিশা।

ঢাকা: রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারের দায়ের করা জেল আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেছেন হাইকোর্ট।

রোববার (১৪ জুন) বিচারপতি মোহাম্মদ আলীর নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন) কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে হাইকোর্টে জেল আপিল করেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি। গত ৯ জুন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায়ের ডেথ রেফারেন্সও অনুমোদনের জন্য হাইকোর্টে পাঠানো হয়। ফৌজদারি মামলায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে হাইকোর্টের অনুমোদন বাধ্যতামূলক।

বিজ্ঞাপন

গত ৭ জুন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন রামিসাকে ধর্ষণ ও গলা কেটে হত্যার দায়ে সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দেন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(২) ধারায় এ রায় ঘোষণা করা হয়।

রায়ে সোহেল রানাকে পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্না আক্তারকে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। আদালত নির্দেশ দেন, এ অর্থ ভুক্তভোগী রামিসার আইনগত উত্তরাধিকারীরা পাবেন। অর্থদণ্ড পরিশোধ না করলে আসামিদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে সেই অর্থ ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রদান করতে হবে।

মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১৯ মে সকালে পল্লবীর বাসা থেকে স্কুলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বের হয় দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা। অভিযোগ রয়েছে, স্বপ্না কৌশলে তাকে নিজের বাসায় নিয়ে যান। পরে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে সোহেলের বাসার দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ এবং একটি বালতির মধ্যে তার বিচ্ছিন্ন মাথা দেখতে পান।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয় এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেফতার করে।

ঘটনার পর রামিসার বাবা পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে মাত্র চার দিনের মধ্যে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ, যেখানে ১৮ জনকে সাক্ষী করা হয়। পরে অভিযোগ গঠন, সাক্ষ্যগ্রহণ, আত্মপক্ষ সমর্থন ও যুক্তিতর্ক শেষে আদালত ৭ জুন রায় ঘোষণা করেন।