ঢাকা: অর্থনীতির বিভিন্ন সূচকে মিশ্র চিত্র দেখা গেলেও ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা এখনো বড় উদ্বেগের কারণ বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান।
তিনি বলেন, বিশেষ করে খেলাপি ঋণ, মূলধন ঘাটতি ও নিম্ন বিনিয়োগ পরিস্থিতি অর্থনীতির জন্য চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।
বুধবার (১৭ জুন) কেন্দ্রীয় ব্যাংক কার্যালয়ে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
আরিফ হোসেন খান বলেন, ব্যাংক খাতে বর্তমানে মোট ঋণের পরিমাণ ১৮ লাখ কোটি টাকার বেশি। এর মধ্যে প্রায় ১১ লাখ কোটি টাকার ঋণ দুর্দশাগ্রস্ত অবস্থায় রয়েছে। সর্বশেষ হিসাবে খেলাপি ঋণ মোট ঋণের প্রায় এক-তৃতীয়াংশে পৌঁছেছে, যা খাতটির স্থিতিশীলতার জন্য বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তিনি জানান, খেলাপি ঋণের কারণে প্রয়োজনীয় প্রভিশন সংরক্ষণে ঘাটতি তৈরি হওয়ায় ব্যাংকগুলোর মূলধন পরিস্থিতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ইন্ডাস্ট্রি অ্যাভারেজ অনুযায়ী ব্যাংক খাতের ক্যাপিটাল অ্যাডিকোয়েসি অনুপাত নেমে মাইনাস ২ দশমিক ৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক মুখপাত্র বলেন, তবে বৈদেশিক খাতে কিছু ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে। চলতি সময়ে দেশের রপ্তানি আয় প্রায় ৪৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স প্রবাহেও ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে। আগের বছরের তুলনায় গড়ে প্রায় ২০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।
তিনি বলেন, রিজার্ভ পরিস্থিতিতেও উন্নতি হয়েছে। হিসাব অনুযায়ী মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৩ থেকে ৩৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। তবে আইএমএফ-এর বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভের পরিমাণ প্রায় ২৬ থেকে ২৭ বিলিয়ন ডলার। আগামী ৩০ জুনের মধ্যে এটি ৩০ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, বিনিয়োগ পরিস্থিতিকে এখনো সন্তোষজনক বলা যাচ্ছে না। গত অর্থবছরে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র ৩ দশমিক ৫ শতাংশ, যা মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার লক্ষ্যের তুলনায় অপর্যাপ্ত বলে মনে করা হচ্ছে।
এ পরিস্থিতিতে শিল্প-কারখানা পুনরায় সচল করা এবং অর্থনীতিতে গতি ফেরাতে কৃষি, সিএমএসএমইসহ বিভিন্ন খাতকে অন্তর্ভুক্ত করে ৬০ হাজার কোটি টাকার একটি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, এই প্যাকেজের কার্যকর বাস্তবায়নই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।