ঢাকা: তিস্তা নদীতে শুষ্ক মৌসুমে পানি সংরক্ষণের জন্য আরেকটি ব্যারেজ নির্মাণের কারিগরি ও আর্থিক বিষয়সমূহ বিভিন্ন পর্যায়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার (১৭ জুন) জাতীয় সংসদে এনসিপি’র সংসদ সদস্য আখতার হোসেন-এর প্রশ্নের লিখিত জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ কথা জানান।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ-এর সভাপতিত্বে এ প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপন করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিস্তা নদীকেন্দ্রিক টেকসই ও সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে একটি সমীক্ষা কার্যক্রম ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। এই সমীক্ষা প্রতিবেদনে তিস্তা মহাপরিকল্পনার মাধ্যমে ১১০ কিলোমিটার নদী তীর সংরক্ষণ, ১১০ কিলোমিটার নদী ড্রেজিং, ২২৪ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও বাঁধের ওপর রাস্তা নির্মাণ, ৬৭টি গ্রোয়েন বা স্পার নির্মাণ ও মেরামত এবং ১৭০ বর্গ কিলোমিটার ভূমি পুনরুদ্ধার ও উন্নয়ন কাজের প্রস্তাব করা হয়েছে।
একই সাথে হজের খরচ কমানোর বিষয়ে সরকারের পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, হজ পালনের ব্যয় কমাতে রাষ্ট্রীয় ও কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। ২০২৫ সালে হজের সর্বনিম্ন প্যাকেজ ৪ লাখ ৭৮ হাজার ২৪২ টাকা থাকলেও ২০২৬ সালে তা ১১ হাজার ৭৫ টাকা কমানো হয়েছে যার সুফল হজযাত্রীরা পেয়েছেন। বৈশ্বিক পরিস্থিতি ও সৌদি পর্বের ঘোষিত ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে সরকার সাধারণ ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের জন্য ২০২৭ সালের প্যাকেজ মূল্য কমানো বা যৌক্তিকভাবে নির্ধারণের সর্বাত্মক চেষ্টা করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সংসদ অধিবেশনে বিভিন্ন সংসদ সদস্যদের প্রশ্নের জবাবে দেশের স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, অর্থনীতি, শ্রম কূটনীতি ও পানি ব্যবস্থাপনার সার্বিক উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। দেশের হামের প্রাদুর্ভাব রোধে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচিকে (ইপিআই) সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, টিকা সংগ্রহ পদ্ধতিতে কোনো পরিবর্তনের ফলে টিকাদান কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে কি না, সে বিষয়ে কারিগরি মূল্যায়নের ভিত্তিতে বিষয়টি পর্যালোচনা করা হবে। এই পর্যালোচনায় কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি বা দায়িত্বের অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’ নীতির আলোকে সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে এবং পাবনা মানসিক হাসপাতালকে আন্তর্জাতিক মানের একটি পূর্ণাঙ্গ মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে রূপান্তর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশের উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের সেবাকেন্দ্রগুলোর শূন্য পদ পূরণের পরিকল্পনার পাশাপাশি আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে কর-জিডিপি অনুপাত ১০ শতাংশে এবং ২০target সালের মধ্যে ১৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যের কথা তিনি জানান।
যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়নে এক্সপ্রেসওয়ে গ্রিড, মাল্টিমোডাল পরিবহন ব্যবস্থা এবং রেলের আধুনিকায়নের বিস্তারিত পরিকল্পনা সংসদে পেশ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, নির্মাণাধীন ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সঙ্গে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সংযোগ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং প্রধান প্রধান রেল রুটে ইলেকট্রিক ট্র্যাকশন প্রবর্তনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। ক্রমান্বয়ে আন্তঃনগর ও কমিউটার ট্রেনের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধির জন্য প্রকল্প গ্রহণ করা হবে। অর্থনৈতিক ও শ্রম কূটনীতিকে অগ্রাধিকার দিয়ে নতুন শ্রমবাজার অনুসন্ধানের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী পানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে বিভাগীয় শহরে ভূগর্ভস্থ পানির পরিবর্তে ভূ-উপরিস্থ পানির সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। দেশের নদী ও জলাধারের পানির নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করতে বড় ধরনের ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট এবং বিকল্প জলাধার তৈরির কাজ চলমান রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।