নেত্রকোনা: নেত্রকোনার দুই উপজেলায় পৃথক স্থানে বজ্রপাতে তিনজনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এতে করে বৃষ্টি চলাকালে এলকাবাসীর মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে কেন্দুয়া উপজেলার মোড়াইল বিলে ও সান্ধিকোণা গ্রামের খালপাড়ে দুই জন নিহত হয়েছেন। অপরদিকে, মদন উপজেলার জয়পাশা গ্রামে বজ্রপাতে অপর আরেকজন নিহত হয়েছেন।
জেলার কেন্দুয়ায় বজ্রপাতে মৃতরা হলেন, শামসুল হুদা উপজেলার মাসকা ইউনিয়নের দিগলী গ্রামের সুরুজ আলীর ছেলে এবং আশরাফুল ইসলাম ডাউকি গ্রামের বেদেনা আক্তারের ছেলে। এদিকে মদন উপজেলায় নিহত হয়েছেন রাজিব মিয়া (২৪)।
কেন্দুয়ার গণমাধ্যমকর্মী রাখাল বিশ্বাস জানান, প্রায়ই বৃষ্টি চলাকালে বজ্রপাতে নিহতের ঘটনা ঘটে। এজন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্ৰহণ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
কেন্দুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মেহেদী মাকসুদ জানান, খুবই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে কেন্দুয়া উপজেলার দুটি স্থানে। বৃহস্পতিবার সকালে শামসুল হুদা মোড়াইল বিলে মাছ শিকার করতে গিয়ে বজ্রপাতে মৃত্যু হয় তার। আবার এ উপজেলায় সান্ধিকোণা গ্রামে আশরাফুল ইসলামের মৃত্যু হয়েছে। দুজনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
মদন থানার ওসি মো. সালাহ উদ্দিন করিম আরেক জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে জানান, মদন উপজেলার জয়পাশা গ্রামে বজ্রপাতে ইটভাটার শ্রমিক রাজিব মিয়ার (২৪) মৃত্যু হয়েছে। তিনি বাড়ির সামনে বৃষ্টিতে ভিজে মাছ ধরছিলেন। হঠাৎ এ সময় বজ্রপাতে তার মৃত্যু হয়। তাকে চিকিৎসা করার সুযোগ ও পায়নি স্বজনরা। পরিবারের নিকট তার মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।
বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের নেত্রকোনা জেলা কমিটির সভাপতি বিশিষ্ট সাংবাদিক শামীম আহমেদ তালুকদার জানান, জেলার বিভিন্ন স্থানে বর্ষাকালে বজ্রপাতে অসংখ্য মানুষের নিহতের ঘটনা ঘটে প্রতি বছর। এজন্য হাওরের মাঝে মাঝে উঁচু স্থানে নিরাপত্তা ছাউনী তৈরি হলে কৃষকরা নিরাপদে আশ্রয় নিতে পারতো।
এ সম্পর্কে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের কর্মকর্তা মো. আমিরুল ইসলাম জানান, দুঃখজনক ঘটনা, প্রতি বছর জেলার হাওর অঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় বজ্রপাতে অনেক লোক নিহত হয়।এ ব্যাপারে আলোচনা চলছে, সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্ৰহণের জন্য আবেদন করছি।