Saturday 20 June 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

কার্বন ট্রেডিংয়ের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা দরকার: বাপা

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
২০ জুন ২০২৬ ১৮:১০

– ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা: বাংলাদেশে কার্বন ট্রেডিং খাতে বিপুল সম্ভাবনা থাকলেও পরিকল্পনার অভাব, সমন্বয়হীনতা ও আধুনিক প্রযুক্তির সীমিত ব্যবহারের কারণে দেশ এখনো এ খাত থেকে উল্লেখযোগ্য আন্তর্জাতিক সুবিধা অর্জন করতে পারেনি বলে মন্তব্য করেছে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)।

শনিবার (২০ জুন) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি কার্যালয়ে প্রস্তাবিত পরিবেশ ও জলবায়ু বাজেট নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন বাপার সভাপতি অধ্যাপক নুর মোহাম্মদ তালুকদার।

বাপার সভাপতি বলেন, কার্বন ট্রেডিং হলো বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কমানোর একটি আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা, যেখানে পরিবেশবান্ধব উদ্যোগের মাধ্যমে অর্জিত কার্বন ক্রেডিট আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রি করা যায়। বর্তমানে এ বাজারের বড় অংশ চীনের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া ও ইন্দোনেশিয়াও উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক সুবিধা পাচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, বাংলাদেশে কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে কেন্দ্র করে কার্বন ট্রেডিংয়ের একটি উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। সিটি করপোরেশনের সমন্বয়হীনতা, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাব এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে আধুনিক প্রযুক্তি থেকে সরে গিয়ে পুরোনো পদ্ধতিতে ফিরে যাওয়ায় প্রকল্পটি সফল হয়নি।

নুর মোহাম্মদ তালুকদার বলেন, সায়েদাবাদের মতো বড় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রগুলোকে স্যানিটারি ল্যান্ডফিলে রূপান্তর করে সেখান থেকে নির্গত মিথেন গ্যাস ব্যবহার করে জ্বালানি উৎপাদন সম্ভব। এ ধরনের উদ্যোগ কার্বন ট্রেডিংয়ের আওতায় আনতে পারলে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক সুবিধা পাওয়া যেতে পারে।

তিনি আরও বলেন, সরকার দুই কোটি গাছ লাগানোর উদ্যোগ নিলেও তা কার্বন ট্রেডিংয়ের আওতায় আনতে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী কার্বন হ্রাসের স্বীকৃতি ও অনুমোদন প্রয়োজন। একই সঙ্গে কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে কার্বন ট্রেডিংয়ের সঙ্গে যুক্ত করার কার্যকর উদ্যোগের অভাব রয়েছে।

বায়ু দূষণ প্রসঙ্গে বাপার সভাপতি বলেন, ঢাকা ও দিল্লির মতো শহরগুলোর দূষণের একটি অংশ আঞ্চলিক বায়ু প্রবাহের মাধ্যমে এক দেশ থেকে অন্য দেশে ছড়িয়ে পড়ে। এ সমস্যা মোকাবিলায় বাংলাদেশ, ভারত ও নেপালের যৌথ উদ্যোগ প্রয়োজন।

তিনি শহরের মধ্যে ফ্লাইওভার নির্মাণের ফলে ধুলাবালির বিস্তার বাড়ার কথাও উল্লেখ করেন। তার মতে, উড়ালসড়কের কারণে দূষণ উচ্চস্তরে ছড়িয়ে আশপাশের বসতি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

পানি দূষণকে দেশের দ্বিতীয় বড় পরিবেশগত সংকট উল্লেখ করে তিনি বলেন, পয়ঃনিষ্কাশন ও শিল্পবর্জ্যের কারণে বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যাসহ ঢাকার চারপাশের নদীগুলোর দূষণ ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে। সুপেয় পানির উৎস রক্ষায় এ বিষয়ে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলন সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর কবির এবং মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন বাপার সদস্য ফারহান হোসেন জয়।