ঢাকা: জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কামরুল ইসলাম এবং ওয়ার্কার্স পার্টি’র সভাপতি রাশেদ খান মেনন-এর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক বিচার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ সদস্য বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বেঞ্চে প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্য উপস্থাপনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়। প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ অভিযোগপত্রের মূল বিষয় তুলে ধরার পাশাপাশি সাক্ষীদের সম্ভাব্য বক্তব্যও আদালতের সামনে উপস্থাপন করেন।
পরে মামলার প্রথম সাক্ষী হিসেবে এক কলেজছাত্র জবানবন্দি দেন। তিনি জানান, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে অংশ নেওয়ার সময় তার সামনেই পুলিশের গুলিতে মারুফ নামে এক আন্দোলনকারী নিহত হন। তবে প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের আবেদনের পর সাক্ষ্যগ্রহণ অসমাপ্ত রেখে ট্রাইব্যুনাল আগামী ২৯ জুন পর্যন্ত কার্যক্রম মুলতবি করেন।
এদিন আদালতে প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, গাজী এমএইচ তামিম, মঈনুল করিম, আবদুস সাত্তার পালোয়ানসহ অন্যান্য প্রসিকিউটর উপস্থিত ছিলেন। সকালে কারাগার থেকে কামরুল ইসলাম ও রাশেদ খান মেননকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। এর আগে গত ৩০ এপ্রিল তাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়েছিল।
প্রসিকিউশনের অভিযোগে বলা হয়েছে, তৎকালীন শেখ হাসিনা সরকারকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখতে কামরুল ইসলাম ও রাশেদ খান মেনন বিভিন্ন উসকানিমূলক বক্তব্য দেন এবং আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলীয় জোটের শীর্ষ পর্যায়ে থেকে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার বিরুদ্ধে মারণাস্ত্র ব্যবহার ও কারফিউ জারিতে প্ররোচনা দেন। তাদের পরিকল্পিত কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতায় রাজধানীর বাড্ডাসহ আশপাশের এলাকায় আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালানো হয়, যাতে ২৩ জন নিহত এবং বহু মানুষ আহত হন।