স্কটল্যান্ডকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে গ্রুপ ‘সি’র চ্যাম্পিয়ন হিসেবে শেষ বত্রিশ নিশ্চিত করেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। কিন্তু নকআউট পর্বের প্রথম বাধা হিসেবে সেলেসাওদের সামনে দাঁড়াবে কোন দল? গাণিতিক হিসাব-নিকাশ ও সম্ভাব্যতা বলছে, দ্বিতীয় রাউন্ডে ব্রাজিলের সবচেয়ে সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হতে যাচ্ছে এশিয়ান পরাশক্তি জাপান!
বিশ্বখ্যাত পরিসংখ্যান মডেল ‘গাতো মেস্ত্রে’র সাম্প্রতিক প্রজেকশন অনুযায়ী, শেষ বত্রিশতে ব্রাজিল বনাম জাপান লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৫৭.৮ শতাংশ। টুর্নামেন্টের নিয়ম অনুযায়ী, গ্রুপ ‘সি’র চ্যাম্পিয়ন দল মুখোমুখি হবে গ্রুপ ‘এফ’র রানার্স-আপ দলের। আর সেই গ্রুপ ‘এফ’র বর্তমান পরিস্থিতিই ব্রাজিলকে জাপানের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
বর্তমানে ৪ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ ‘এফ’-এর শীর্ষে রয়েছে নেদারল্যান্ডস। সমান পয়েন্ট নিয়েও কেবল গোল ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় স্থানে আছে জাপান। ৩ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে থাকা সুইডেনেরও নকআউটে ওঠার ভালো সুযোগ রয়েছে। অন্যদিকে কোনো পয়েন্ট না পেয়ে তিউনিসিয়া ইতিমধ্যেই আসর থেকে বিদায় নিয়েছে।
অর্থনীতিবিদ ব্রুনো ইমাইজুমি এই সমীকরণটি ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘মাঠে যদি অস্বাভাবিক কিছু না ঘটে, অর্থাৎ নেদারল্যান্ডস যদি বিদায় নেওয়া তিউনিসিয়াকে হারায় এবং জাপান যদি সুইডেনকে হারিয়ে দেয়, তবে ব্রাজিল দ্বিতীয় রাউন্ডে জাপানের মুখোমুখি হবে। আর জাপানকে হারিয়ে সুইডেন যদি রানার্স-আপ হয়, তবে ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ হওয়ার সম্ভাবনা ৩০ শতাংশ। ডাচরা যদি কোনো অঘটন ঘটিয়ে তিউনিসিয়ার কাছে হেরে বসে, তবেই কেবল ব্রাজিলের সামনে পড়বে নেদারল্যান্ডস (১২.২ শতাংশ)।’
বাংলাদেশ সময় শুক্রবার ভোরে জানা যাবে গ্রুপ ‘এফ’-এর শেষ বত্রিশের চূড়ান্ত লাইনআপ। কানসাসে নেদারল্যান্ডস লড়বে তিউনিসিয়ার বিপক্ষে, আর ডালাসে মুখোমুখি হবে জাপান ও সুইডেন। ডাচরা নিজেদের ম্যাচে ফেবারিট হিসেবে জিতলে জাপান-সুইডেন ম্যাচের জয়ী দলই হবে ব্রাজিলের পরবর্তী প্রতিপক্ষ।
অর্থনীতিবিদ ব্রুনো ইমাইজুমি এবং একদল ডেটা বিজ্ঞানীর যৌথ সমন্বয়ে তৈরি এই মডেলটি প্রতিটি দলের শক্তি ও দুর্বলতার চুলচেরা বিশ্লেষণ করে। এটি কোনো নিশ্চিত ভবিষ্যৎবাণী নয়, বরং প্রতি মুহূর্তের পারফরম্যান্সের ওপর ভিত্তি করে বদলে যাওয়া একটি গাণিতিক চিত্র। এই সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ডেটা বা উপাত্ত ব্যবহার করা হয়। যেমন- এক্সপেক্টেড গোল, ফিফা র্যাঙ্কিং, খেলোয়াড়দের বাজারমূল্য, বিশ্বকাপের অতীত ইতিহাস ইত্যাদি।