রংপুর: জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম সদস্য সচিব ও সংসদ সদস্য ড. আতিক মুজাহিদ বলেছেন, রংপুর অঞ্চলের জন্য প্রস্তাবিত তিন হাজার কোটি টাকা উন্নয়ন বরাদ্দ মোট বাজেটের মাত্র এক শতাংশ, যা দুই কোটির মানুষের জন্য হাস্যকর। তিনি অভিযোগ করেন, আন্দোলন রংপুরে হলেও উন্নয়ন বাজেটের বড় অংশ চলে যায় দেশের দক্ষিণাঞ্চলে।
শুক্রবার (২৬ জুন) রাতে রংপুর জেলা শিল্পকলা অ্যাকাডেমিতে জাতীয় যুবশক্তির বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ড. আতিক মুজাহিদ বলেন, ‘আপনারা শুনেছেন, অর্থমন্ত্রী অনেক কষ্ট, মায়া-দয়া করে বলেছে, রংপুর অঞ্চলের জন্য তিন হাজার কোটি টাকার একটা বাজেট রেখেছে। কিন্তু উন্নয়ন বাজেট বাংলাদেশের তিন লাখ ত্রিশ হাজার কোটি টাকা। সেখানে তিন হাজার কোটি টাকা কয় শতাংশ হয় ভাই? এক শতাংশ। দুই কোটির মানুষের জন্য এক শতাংশ বাজেট দিয়ে উন্নয়ন ঘটানো সম্ভব?’
দীর্ঘদিনের আঞ্চলিক বৈষম্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘এখন লোকে বলে আন্দোলন হয় রংপুরে, কিন্তু আমি বলতে চাই না, নিন্দুকেরা বলে বাজেট যায় দক্ষিণে। আমাদের অঞ্চলের মানুষকে দীর্ঘদিন পিছিয়ে রাখা হয়েছে। পিছিয়ে পড়া নয়, পিছিয়ে রাখা হয়েছে।’ রংপুরে গ্যাস ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের অভাব তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমাদের এখানে গ্যাসও আসে না, শিল্প প্রতিষ্ঠানও আসে না। আমরা মঙ্গা আর বেকারই থেকে যাই।’
তিনি আরও জানান, রংপুর অঞ্চল থেকে দেশের আলু উৎপাদনের ৭২ শতাংশ এবং খাদ্য উৎপাদনের ৪০-৫০ শতাংশ আসে, কিন্তু সেই অবদানের যথাযথ মূল্যায়ন হয় না। এখানকার মানুষকে ন্যায্য বরাদ্দের মাধ্যমে রাষ্ট্রের কাছে ন্যায়বিচার পেতে হবে বলেও দাবি করেন তিনি। সম্প্রতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটেও রংপুরের জন্য সুনির্দিষ্ট কোনো বড় প্রকল্প বা শিল্পায়ন উদ্যোগ রাখা হয়নি, যা নিয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও নাগরিক সমাজের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সবদিকে খেয়াল দিতে গিয়ে দেশের সার্বিক নিরাপত্তা খুব একটা ভালো দিতে পারছেন না বলে মন্তব্য করে সংসদ সদস্য আতিক মুজাহিদ বলেন, ‘আমরা মনে করি যে চার মাসে যে কয়েকটা মন্ত্রী খুব ভাল পর্যাপ্ত পরিমাণ কার্যক্রম করতে পারেনি তার মধ্যে একটা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। অনেকে বলে ব্যর্থতার দিকে উনার আচরণ।’
সীমান্তের অস্থিরতা নিয়ে তিনি বলেন, ‘ভারতের শুভেন্দু অধিকারীর মতো লোক বলতেছে বাংলাদেশে ১০ হাজারের মতো লোক পুশইন করা হয়েছে। সেই লোকগুলো কোথায়? আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আমাদের বিজিবি, বিডিআর তারা কেন বলতেছে না কতটুকু লোককে দেশে প্রবেশ করেছে। এটা জাতির জন্য খুবই একটা সিকিউরিটি থ্রেটেং।’
জাতীয় যুবশক্তির কেন্দ্রীয় সভাপতি তারিকুল ইসলাম দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার অভিযোগ এনে জননিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকারের ব্যর্থতার কথা বলেন। তিনি প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক উদারতার কথা উল্লেখ করে বলেন, তিনি আওয়ামী লীগকে দেশে রাজনীতি করার সুযোগ দিয়েছিলেন, কিন্তু শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ১৩ দিনের মাথায় তাকে হত্যা করা হয়।
প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে তারিকুল ইসলাম আরও বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারে একাকী রেখে নির্যাতন করা হয়েছিল। তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘কিন্তু আপনি যেভাবে এই বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের ফিরে আসার রাস্তা ওপেন রেখেছেন তা আপনাদের করুণ পরিণতি ডেকে আনবে।’
বিভাগীয় যুব সমাবেশে মোতাওয়াক্কিল বিল্লাহ শাহ ফকিরের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন জেলা যুবশক্তির সভাপতি রাকিবুল ইসলাম তৌফিক, যুবশক্তির কেন্দ্রীয় সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব মাসুম বিল্লাহ, বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সাইদুজ্জামান বাবু, মহানগর এনসিপির সদস্যসচিব আব্দুল মালেকসহ এনসিপি, জাতীয় যুবশক্তি ও ছাত্রশক্তির রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলার নেতারা।