Monday 07 September 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

৩ সেনা কর্মকর্তার জামিনের আদেশ ২৪ সেপ্টেম্বর

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৮:১৮

ঢাকা: কক্সবাজারের টেকনাফে কাউন্সিলর একরামুল হক হত্যা সংক্রান্ত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদসহ ৩ সেনা কর্মকর্তার জামিন আবেদন শুনানি শেষ হয়েছে। এ বিষয়ে আদেশ দেওয়ার জন্য আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। একই দিনে মামলার ১১ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন বিষয়ে শুনানিও অনুষ্ঠিত হবে।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন ৩ সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অন্য ২ সদস্য হলেন- বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

বিজ্ঞাপন

এদিন মামলার গ্রেফতার ৪ আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তারা হলেন— কক্সবাজার-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদি, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুব আলম এবং র‍্যাবের সাবেক মহাপরিচালক আনোয়ার লতিফ খান।

প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন। এ সময় প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ, মোহাম্মদ অলি মিয়া, মঈনুল করিমসহ অন্য প্রসিকিউটররা উপস্থিত ছিলেন।

শুনানিতে জহিরুল আমিন আদালতকে জানান, গত ২৫ আগস্ট ট্রাইব্যুনালের নির্দেশে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সাত পলাতক আসামিকে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানিয়ে দুটি জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। হাজিরার জন্য সোমবার দিন ধার্য থাকলেও তারা আদালতে উপস্থিত হননি। এ অবস্থায় পলাতক আসামিদের পক্ষে স্টেট ডিফেন্স নিয়োগ এবং অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য সময় চাওয়া হয়।

অন্যদিকে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুব আলম ও আনোয়ার লতিফ খানের পক্ষে আইনজীবী তবারক হোসেন জামিন আবেদন করেন। বিভিন্ন আইনগত যুক্তি তুলে ধরে তিনি তিন আসামির জামিন প্রার্থনা করেন।

উভয় পক্ষের শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর জামিন আবেদনের ওপর আদেশ দেওয়ার দিন নির্ধারণ করেন। একই সঙ্গে ওই দিনই ১১ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের শুনানির তারিখও ধার্য করা হয়।

এর আগে ২৫ আগস্ট ট্রাইব্যুনাল আবদুর রহমান বদিসহ ৪ আসামিকে গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পাশাপাশি শেখ হাসিনাসহ ৭ পলাতক আসামিকে আত্মসমর্পণের জন্য জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আদেশ দেওয়া হয়।

শেখ হাসিনা ছাড়া পলাতক অন্য আসামিরা হলেন— সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, মেজর (অব.) রুহুল আমিন, লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আশেকুর রহমান এবং ডিজিএফআইয়ের সাবেক কর্মকর্তা স্কোয়াড্রন লিডার নাজমুস সাকিব মাহমুদ।

উল্লেখ্য, গত ২৬ জুলাই ট্রাইব্যুনাল-২ শেখ হাসিনাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১৮ সালের ২৬ মে রাতে টেকনাফ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি একরামুল হককে তুলে নিয়ে গিয়ে কথিত বন্দুকযুদ্ধের নাটক সাজিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় আসামিদের বিরুদ্ধে অবৈধ আটক, অপহরণ, হত্যাকাণ্ডে সংশ্লিষ্টতা, প্ররোচনা, সহায়তা এবং হত্যার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ এনেছে প্রসিকিউশন।

সারাবাংলা/টিএম/এসএস
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর