Saturday 24 October 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

নুসরাত হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৯:৪২ | আপডেট: ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২৩:৫১

নুসরাত জাহান রাফি।

ঢাকা: ফেনীর আলোচিত মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়েছে। রায়ে নিম্ন আদালতের দেওয়া ১৬ জনের মৃত্যুদণ্ডের মধ্যে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে, চারজনের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং বাকি ১০ জনকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চের ১১২ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়। এর আগে গত ২৪ আগস্ট একই বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদরাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলা এবং শাহাদাত হোসেন শামীমের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে। এ ছাড়া নূর উদ্দিন, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জুবায়ের এবং উম্মে সুলতানা ওরফে পপির মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে, কামরুন নাহার মনি, হাফেজ আব্দুল কাদের, মহিউদ্দিন শাকিল, ইমরান হোসেন ওরফে মামুন, আব্দুর রহিম শরীফ, মোহাম্মদ শামীম, ইফতেখার উদ্দিন রানা, সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি রুহুল আমিন, আবছার উদ্দিন এবং মাকসুদ আলম ওরফে মোকসুদ কাউন্সিলরকে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় খালাস দেওয়া হয়েছে।

রায়ের বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, হাইকোর্ট সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে দেখেছেন যে, ১০ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়নি। তাই তাদের বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে চারজনের ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডই উপযুক্ত বলে আদালত মনে করেছেন।

তিনি আরও জানান, রায়ে নিম্ন আদালতের বিচারক মামুনুর রশিদের রায় নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দেওয়া হয়েছে। হাইকোর্ট মন্তব্য করেছেন, একসঙ্গে ১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার ক্ষেত্রে বিচারক প্রয়োজনীয় বিচারিক বিবেচনা বা ‘জুডিসিয়াল মাইন্ড’ প্রয়োগে ব্যর্থ হয়েছেন। প্রত্যেক আসামির ভূমিকা ও অপরাধে সম্পৃক্ততার মাত্রা পৃথকভাবে মূল্যায়ন না করেই দণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে বলে আদালত পর্যবেক্ষণ করেছেন।

এ কারণে বিচারক মামুনুর রশিদকে ফৌজদারি মামলার বিচার ও দণ্ড নির্ধারণসংক্রান্ত দায়িত্ব থেকে অবিলম্বে প্রত্যাহারের জন্য আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান অ্যাটর্নি জেনারেল।

২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলার বিরুদ্ধে নুসরাতকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে মামলা করেন তার মা শিরীন আখতার। ওই মামলায় অধ্যক্ষ গ্রেফতার হওয়ার পর তাকে মুক্ত করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পনা করা হয় বলে তদন্তে উঠে আসে।

পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ৬ এপ্রিল আলিম পরীক্ষা দিতে মাদরাসায় গেলে নুসরাতকে কৌশলে সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নিয়ে গিয়ে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাকে প্রথমে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পরে ফেনী জেনারেল হাসপাতাল এবং শেষ পর্যন্ত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল তিনি মারা যান।

ঘটনার পর ৮ এপ্রিল নুসরাতের ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে ২৮ মে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয় এবং দ্রুত বিচার শেষে মাত্র ৬১ কার্যদিবসে ৮৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ ও যুক্তিতর্ক সম্পন্ন হয়। পরে ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল মামলার ১৬ আসামির সবাইকে মৃত্যুদণ্ড দেন। সেই রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিলের পর হাইকোর্ট এ সংশোধিত রায় দেন।

সারাবাংলা/টিএম/এনজে
বিজ্ঞাপন

জাতিসংঘ দিবস আজ
২৪ অক্টোবর ২০২৬ ১৩:৩১

আরো

সম্পর্কিত খবর