ঢাকা: কিডনি-সংক্রান্ত জটিলতায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারপ্রাপ্ত বিশিষ্ট শিশুসাহিত্যিক ও চ্যানেল আইয়ের অনুষ্ঠান বিভাগের প্রধান আমীরুল ইসলাম।
মৃত্যুকালীন সময়ে তার বয়স হয়েছিল ৬২ বছর। সেখানে চারদিন ধরে তিনি নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে লাইফ সাপোর্টে ছিলেন। পরবর্তীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১টা ৭ মিনিটে তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। প্রকাশক মঈন মুরসালিন সমাজমাধ্যম বা ফেসবুকে একটি বার্তার মাধ্যমে তার এই প্রয়াণের সত্যতা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেন।
প্রয়াত এই বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের মরদেহ শেষ শ্রদ্ধা ও জানাজার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাওয়ার সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকাশক মঈন মুরসালিন গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে শুক্রবারে (১১ সেপ্টেম্বর) বাদ জুমা আমীরুল ইসলামের মরদেহ তার দীর্ঘদিনের কর্মস্থল চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে নেওয়া হবে এবং সেখানে দুপুর ১টা ৩৫ মিনিটে প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য বিকেল ৩টায় তার মরদেহ বাংলা একাডেমির বর্ধমান হাউজ প্রাঙ্গণে রাখা হবে। সূচি অনুযায়ী বিকেল সাড়ে ৩টায় বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণেই দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরবর্তীতে বাংলা একাডেমি থেকে মিরপুর নেওয়ার পথে বাংলামোটরের বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে ১৫ মিনিটের একটি যাত্রাবিরতি শেষে মিরপুরের গোলারটেক ঈদগাহ জামে মসজিদে তৃতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে এবং জানাজা শেষে শহিদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে নিজ মায়ের কবরের পাশে তাকে চিরনিদ্রায় সমাহিত করা হবে।
আমীরুল ইসলাম ১৯৬৪ সালের ৭ এপ্রিল ঢাকার লালবাগে জন্ম গ্রহণ করেন এবং তিনি আজীবন সাহিত্যচর্চা ও গণমাধ্যমের নানা কাজের সাথে যুক্ত ছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র থেকে প্রকাশিত কিশোরদের উপযোগী পত্রিকা আসন্ন এবং অধুনালুপ্ত দৈনিক বাংলার ছোটদের চার রঙের পাতা সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেন। শিশুসাহিত্যে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০০৬ সালে তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন। এর পাশাপাশি তিনি অগ্রণী ব্যাংক শিশুসাহিত্য পুরস্কারসহ দেশ ও বিদেশের বহু গুরুত্বপূর্ণ সম্মাননা অর্জন করেন। দীর্ঘ সাহিত্যজীবনে শিশুদের জন্য আড়াই শতাধিক গল্প, ছড়া ও নানা ধরনের সৃজনশীল বই প্রকাশ করেছেন এই জনপ্রিয় লেখক।