ঢাকা: বিয়ের ক্ষেত্রে তথ্য গোপন ও প্রতারণা ঠেকাতে কাবিননামায় বর-কনের আগের ও বিদ্যমান বিয়ে, সন্তান এবং সরকারি পরিচয়পত্রের তথ্য সংযুক্ত করার নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি এস এম ইফতেখার উদ্দিন মাহমুদের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট শেখ ওমর ও অ্যাডভোকেট তানজিলা রহমান জুঁই।
এর আগে, গত ২৫ আগস্ট জনস্বার্থে এ বিষয়ে রিট দায়ের করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান। রিটে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব, লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের সচিব এবং নিবন্ধন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শককে বিবাদী করা হয়।
রিটে বলা হয়, বর্তমানে ব্যবহৃত বাংলাদেশ ফরম নম্বর ১৬০১ বা ‘ফরম ঘ’-এর কাবিননামায় বর ও কনের আগের ও বিদ্যমান বিয়ে, সাবেক স্বামী বা স্ত্রী, বিয়ে ও তালাক নিবন্ধনের তথ্য, সন্তান এবং আগের সম্পর্ক থেকে তৈরি ভরণপোষণ, অভিভাবকত্বসহ চলমান আইনগত দায়দায়িত্ব সমভাবে প্রকাশ ও যাচাইয়ের কার্যকর ব্যবস্থা নেই।
বর্তমান কাবিননামায় বরের বিদ্যমান স্ত্রী এবং সালিশি পরিষদের অনুমতির বিষয়ে কিছু তথ্য চাওয়া হলেও তার আগের বিয়ে, তালাক, সাবেক স্ত্রী ও সন্তানদের পূর্ণাঙ্গ তথ্য দেওয়ার বাধ্যবাধকতা নেই। একইভাবে কনের ক্ষেত্রেও আগের বৈবাহিক ইতিহাস যাচাইয়ের সমতাভিত্তিক কোনো ব্যবস্থা নেই।
রিটে আরও বলা হয়, গুরুত্বপূর্ণ এসব তথ্য গোপন করে পরবর্তী বিয়েতে আবদ্ধ হওয়ার সুযোগ থাকায় প্রতারণা ও পারিবারিক বিরোধের সৃষ্টি হচ্ছে। এতে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া ব্যক্তি অপর পক্ষের বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তথ্য জেনে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। পাশাপাশি আগের স্বামী বা স্ত্রী এবং সন্তানদের আইনগত অধিকারও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ কারণে কাবিননামা সংশোধন করে বর-কনের আগের ও বিদ্যমান সব বিয়ের তথ্য, আগের বা বিদ্যমান বিয়ের সন্তানদের তথ্য, চলমান ভরণপোষণ, অভিভাবকত্ব ও অন্যান্য আইনগত দায়দায়িত্বের তথ্য যুক্ত করার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জন্মনিবন্ধন, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) অথবা পাসপোর্ট নম্বর সংযুক্ত ও যাচাইযোগ্য করার বিষয়েও নির্দেশনা চাওয়া হয়।
শুনানি শেষে হাইকোর্ট জানতে চান, এসব তথ্য কাবিননামায় অন্তর্ভুক্ত করে তা হালনাগাদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না।
এ ছাড়া নাগরিকদের পারিবারিক জীবন ও অধিকার সুরক্ষায় কাবিননামার সংশ্লিষ্ট ফরম প্রয়োজনীয়ভাবে সংশোধনের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা-ও জানতে চেয়েছেন আদালত।