ঢাকা: দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাৎ ও পুঁজিবাজারে কারসাজির মাধ্যমে শত শত কোটি টাকা লেনদেন এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসানসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ পিছিয়েছে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। তবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) প্রতিবেদন দাখিল করতে না পারায় ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ শাহজাহান কবির নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন। আগামী ১৭ নভেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য করা হয়েছে।
আদালতে দুদক-এর প্রসিকিউশন বিভাগের সহকারী পরিচালক আমিনুল ইসলাম বিষয়টি জানিয়েছেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের মাধ্যমে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে গত বছরের ১৭ মে দুদক প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সাজ্জাদ হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি করেন। পরে ১৬ জুন আদালত আসামিদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেন।
মামলায় সাকিব আল হাসান ছাড়াও সমবায় অধিদফতরের উপ-নিবন্ধক আবুল খায়ের, তাঁর স্ত্রী কাজী সাদিয়া হাসান, আবুল কালাম মাদবর, কনিকা আফরোজ, মোহাম্মদ বাশার, সাজেদ মাদবর, আলেয়া বেগম, কাজী ফুয়াদ হাসান, কাজী ফরিদ হাসান, জাভেদ এ মতিন, জাহেদ কামাল, হুমায়ূন কবির ও তানভির নিজামকে আসামি করা হয়েছে।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, আসামিরা নিজেদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বেনিফিশিয়ারি ওনার্স (বিও) হিসাব ব্যবহার করে অনৈতিক ও অবৈধ উপায়ে শেয়ারবাজারে ধারাবাহিক লেনদেন এবং বাজার কারসাজি করতেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, একটি সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে নির্দিষ্ট কিছু শেয়ার ধারাবাহিকভাবে কেনাবেচা করে কৃত্রিমভাবে দাম বাড়ানো হতো। পরে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের এসব শেয়ারে বিনিয়োগে প্রলুব্ধ করা হতো। এতে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, এভাবে চক্রটি ২৫৬ কোটি ৯৭ লাখ ৭০ হাজার ৩০৪ টাকার বেশি অর্থ আত্মসাৎ করে। এসব অর্থকে অস্বাভাবিক মূলধন লাভ হিসেবে দেখানো হলেও দুদকের অভিযোগ, প্রকৃতপক্ষে এগুলো ছিল অপরাধলব্ধ অর্থ।
এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, আবুল খায়ের ওরফে হিরু পুঁজিবাজার থেকে পাওয়া অর্থের ২৯ কোটি ৯৪ লাখ ৪২ হাজার ১৮৫ টাকা তার স্ত্রী কাজী সাদিয়া হাসান-এর সহায়তায় বিভিন্ন খাতে স্থানান্তর করেন। দুদক এটিকে মানি লন্ডারিং হিসেবে উল্লেখ করেছে।
এ ছাড়া হিরু’র নামে থাকা ১৭টি ব্যাংক হিসাবে ৫৪২ কোটি ৩১ লাখ ৫১ হাজার ৯৮২ টাকার অস্বাভাবিক, অযৌক্তিক ও সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে বলেও মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, আবুল খায়ের ওরফে হিরু’র কারসাজির অভিযোগ থাকা প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড, ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড ও সোনালী পেপারস লিমিটেড-এর শেয়ারে সাকিব আল হাসান বিনিয়োগ করেন।
দুদকের অভিযোগ, এর মাধ্যমে সাকিব আল হাসান পুঁজিবাজারের কারসাজিতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের এসব শেয়ারে বিনিয়োগে প্রলুব্ধ করেন। পরে তিনি ২ কোটি ৯৫ লাখ ২ হাজার ৯১৫ টাকা ‘রিয়ালাইজড ক্যাপিটাল গেইন’ হিসেবে পুঁজিবাজার থেকে তুলে নেন, যা দুদকের ভাষ্য অনুযায়ী অপরাধলব্ধ আয়।
তবে মামলায় করা এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের পর অভিযোগগুলোর বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য সামনে আসতে পারে।
আগামী ১৭ নভেম্বর মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নতুন দিন ধার্য রয়েছে।