রংপুর: উত্তরাঞ্চলের তিস্তা নদীর পানি বেড়েই চলেছে। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা জেলার কিছু স্থানে তিস্তার পানি সতর্কসীমা (ওয়ার্নিং লেভেল) পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। এতে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কোথাও কোথাও সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাতে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের বৃষ্টিপাত, নদ-নদীর পরিস্থিতি এবং পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় অবস্থিত দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজ ডালিয়া পয়েন্টে শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টায় পানি প্রবাহ রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ১১ মিটার, যা বিপৎসীমার (৫২ দশমিক ১৫ মিটার) মাত্র ৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের লালমনিরহাট কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনিল কুমার বলেন, ‘বৃষ্টি আর উজানের ঢলে তিস্তা নদীর পানি বাড়ছে। ডালিয়া পয়েন্টে সন্ধ্যা ৬টায় বিপৎসীমার ৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা পানি সমতলে বাড়তে পারে। সেক্ষেত্রে নিম্নাঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।’
ভারতের জলপাইগুড়িতে টানা ভারী বৃষ্টির কারণে তিস্তা নদীর পানি বিপজ্জনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। গজলডোবা ব্যারাজ থেকে দফায় দফায় পানি ছাড়া হচ্ছে। শুক্রবার সকাল ৬টায় কালীঝোরা ব্যারাজ থেকে ২,৭৬৮ কিউমেক এবং গজলডোবা ব্যারাজ থেকে ২ হাজার ৩৭৫ কিউমেক পানি ছাড়া হয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশের দিকেও তিস্তার পানি দ্রুত বাড়ছে।
কেন্দ্রের পূর্বাভাস অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় তিস্তার পানি সমতল বেড়েছে। ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি সমতল স্থিতিশীল রয়েছে। আগামী দুই দিন এসব নদ-নদীর পানি সমতল বাড়তে পারে। এরপর তৃতীয় দিন পানি কমতে পারে। এদিকে দেশের সব প্রধান নদ-নদী বর্তমানে বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
দক্ষিণ উড়িষ্যা ও তৎসংলগ্ন উত্তর অন্ধ্র প্রদেশ এলাকায় অবস্থানরত স্থল গভীর নিম্নচাপটি উত্তর-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে দুর্বল হয়ে বর্তমানে উড়িষ্যা ও তৎসংলগ্ন এলাকায় স্থল নিম্নচাপ হিসেবে অবস্থান করছে। এটি আরও উত্তর-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ক্রমান্বয়ে দুর্বল হতে পারে।
আবহাওয়া সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, আগামী এক দিন দেশের উত্তরাঞ্চল, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও তৎসংলগ্ন উজানে মাঝারি-ভারী থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। পরবর্তী দুই দিন দেশের অভ্যন্তরে ও তৎসংলগ্ন উজানে মাঝারি থেকে মাঝারি-ভারি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে।
জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র নদের পানি সমতল কমেছে। যমুনার পানি সমতল স্থিতিশীল রয়েছে। আগামী পাঁচ দিন ব্রহ্মপুত্র ও যমুনার পানি সমতল কমতে পারে।
গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানি সমতলও গত ২৪ ঘণ্টায় কমেছে। গঙ্গার পানি আগামী দুই দিন কমে পরবর্তী তিন দিন বাড়তে পারে। পদ্মার পানি আগামী দুই দিন কমে পরবর্তী তিন দিন স্থিতিশীল থাকতে পারে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানি সমতল গত ২৪ ঘণ্টায় কমেছে। আগামী তিন দিনও এ দুই নদীর পানি সমতল কমতে পারে।
রংপুরের গঙ্গাচড়ার চর ইচলির বাসিন্দা আব্দুর রশিদ বলেন, ‘এবার স্থায়ী বড় কোনো বন্যা হয়নি। তবে আজকে নদীর পানি যেভাবে বাড়ছে, তাতে মনে হচ্ছে বড় বন্যা হতে পারে। বন্যা হলে নদীপাড়ের মানুষের কষ্টের শেষ থাকে না।’
প্রসঙ্গত, প্রতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসের শেষ দিকে তিস্তা অববাহিকায় বড় বন্যা হয়ে থাকে। সেই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা করছেন তিস্তাপাড়ের মানুষ।