ঢাকা: চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় গ্রেফতার চলচ্চিত্র অভিনেতা আশরাফুল হক ডন ওরফে খলনায়ক ডন-এর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত।
সোমবার (৫ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মঞ্জুরুল ইসলাম-এর আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। আদালতে ডনের পক্ষে আইনজীবী সফিউল ইসলাম জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত আবেদনটি নাকচ করে দেন বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন।
গত ৯ আগস্ট হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ডনকে গ্রেফতার করে ইমিগ্রেশন পুলিশ। পরে তাকে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) হস্তান্তর করা হয়। একই দিন তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর নিউ ইস্কাটনের বাসায় মারা যান চিত্রনায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন ওরফে সালমান শাহ। এ ঘটনায় তার বাবা প্রয়াত কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী রমনা থানায় অপমৃত্যুর মামলা করেন।
পরে ছেলের মৃত্যু আত্মহত্যা নয়, পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড—এমন অভিযোগ তুলে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে নেওয়ার আবেদন করেন তিনি। আদালতের নির্দেশে অপমৃত্যু ও হত্যার অভিযোগ একসঙ্গে তদন্ত করে সিআইডি।
তদন্ত শেষে ১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয় সিআইডি। এতে সালমান শাহর মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করা হয়। ২৫ নভেম্বর ঢাকার সিএমএম আদালত ওই প্রতিবেদন গ্রহণ করেন।
সিআইডির প্রতিবেদনে আপত্তি জানিয়ে সালমানের বাবা রিভিশন মামলা করেন। তার মৃত্যুর পর মামলাটি পরিচালনা করছেন সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর।
সবশেষ গত ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক বাদীপক্ষের রিভিশন আবেদন মঞ্জুর করে মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন।
এর পরদিন ২১ অক্টোবর রমনা থানায় হত্যা মামলা করেন সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর। মামলায় সালমান শাহর স্ত্রী সামীরা হকসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন—শিল্পপতি ও সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই, লতিফা হক লুছি, আশরাফুল হক ডন, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, মে-ফেয়ার বিউটি সেন্টারের রুবি, আব্দুস ছাত্তার, সাজু ও রেজভি আহমেদ ফরহাদ। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে মোহাম্মদ আলমগীর অভিযোগ করেন, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সালমান শাহর বাসায় তার মা নীলা চৌধুরী, বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী ও ছোট ভাই শাহরান শাহ যান। সেখানে গিয়ে তারা জানতে পারেন, সালমান ঘুমিয়ে আছেন।
কিছুক্ষণ পর প্রডাকশন ম্যানেজার সেলিম ফোন করে সালমানের কিছু হয়েছে বলে জানান। পরে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত বাসায় ফিরে তাকে শয়নকক্ষে নিথর অবস্থায় দেখতে পান। এ সময় কয়েকজন নারী তার হাত-পায়ে তেল মালিশ করছিলেন এবং পাশের কক্ষে সামীরার আত্মীয় রুবি ছিলেন বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরিবারের সদস্যরা সালমানকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় তার গলায় দড়ির দাগ এবং মুখমণ্ডল ও পায়ে নীলচে দাগ দেখতে পান বলে এজাহারে দাবি করা হয়। পরে হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল হয়ে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
বাদীপক্ষের অভিযোগ, সালমানের বাবা মৃত্যুর আগে ছেলের মৃত্যুকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে সন্দেহ করে আদালতে আবেদন করেছিলেন। ওই আবেদনে রমনা থানার অপমৃত্যু মামলাটি দণ্ডবিধির ৩০২ ও ৩৪ ধারায় হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণ এবং সিআইডির মাধ্যমে তদন্তের আবেদন করা হয়।
হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে গত ২০ মে সালমান শাহর মরদেহ কবর থেকে উত্তোলনের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। পরে ২৪ মে আদালত মরদেহ উত্তোলন, সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি এবং ময়নাতদন্তের অনুমতি দেন।
তবে মরদেহ উত্তোলনের আদেশ বাতিল চেয়ে বাদীপক্ষ আবেদন করলে আদালত সেটি নথিভুক্ত করেন। পরে গত ২২ জুন দেহাবশেষ উত্তোলনের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহাকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এদিকে মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৫ নভেম্বর দিন ধার্য রয়েছে।