Friday 09 October 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

মেহেরপুরে চাহিদার তুলনায় সার সরবরাহ কম, বিপাকে কৃষক

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
৯ অক্টোবর ২০২৬ ১২:২১
মেহেরপুর: আমন ধানের পাশাপাশি শীতকালীন সবজির আবাদ শুরু হওয়ায় মেহেরপুরে ডিএপি ও টিএসপি সারের চাহিদা বেড়েছে। তবে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় প্রয়োজন অনুযায়ী সার সংগ্রহ করতে কৃষকদের সময় লাগছে। অনেক ক্ষেত্রে ডিলারের বিক্রয়কেন্দ্রে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও প্রয়োজনের তুলনায় কম সার পাচ্ছেন তারা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে শুধু আমন ও শীতকালীন সবজির জন্য প্রায় ৩ হাজার ৬৫৬ মেট্রিক টন ডিএপি ও টিএসপি সার প্রয়োজন। এর বাইরে কলা, পেঁয়াজ, তুলা, মাষকলাইসহ অন্যান্য ফসলেও সার প্রয়োজন হচ্ছে।
চলতি মৌসুমে মেহেরপুরে ২৬ হাজার ৯৩০ হেক্টর জমিতে আমন ধানের আবাদ হয়েছে। পাশাপাশি ৪ হাজার ৬৪৭ হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজির আবাদ হচ্ছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের মতে, আমন ধানের জমিতে বিঘাপ্রতি ১৩ কেজি এবং শীতকালীন সবজির জমিতে বিঘাপ্রতি ৩০ কেজি ডিএপি বা টিএসপি প্রয়োজন।
এই হিসাবে আমনের জন্য প্রায় ২ হাজার ৬১৫ মেট্রিক টন এবং শীতকালীন সবজির জন্য প্রায় ১ হাজার ৪১ মেট্রিক টন সার প্রয়োজন। অন্যদিকে, সেপ্টেম্বর মাসে জেলায় ডিএপি ও টিএসপি মিলিয়ে বরাদ্দ এসেছে ২ হাজার ১৯৭ মেট্রিক টন। ফলে শুধু আমন ও শীতকালীন সবজির প্রয়োজনের তুলনাতেই সরবরাহ কম রয়েছে।
মেহেরপুর সদর উপজেলার নিশ্চিন্তপুর গ্রামের কৃষক জহিরুল ইসলাম এ মৌসুমে আমন, কলা, করলা, পেঁয়াজ, ফুলকপি ও শসার আবাদ করছেন। তার জমির পরিমাণ ৮ বিঘা। তিনি বলেন, সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে সার কিনতে গিয়ে সকাল থেকে লাইনে দাঁড়ানোর পর দুপুরে ৫০ কেজি টিএসপি সার পেয়েছেন। পরে সেই সার পেঁয়াজ ও করলার জমিতে ভাগ করে ব্যবহার করেছেন।
জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘৮ বিঘা জমিতে ৫০ কেজি সার দিয়ে কীভাবে ফসল ফলাব?’ প্রয়োজন মেটাতে পরে বাড়তি টাকা খরচ করে কিছু সার সংগ্রহ করতে হয়েছে বলেও জানান তিনি।
কুতুবপুর ইউনিয়নের সার ডিলার আবদুল আওয়াল বলেন, ইউনিয়নে সারের যে পরিমাণ চাহিদা রয়েছে, তার তুলনায় বরাদ্দ কম। চলতি মৌসুমে আমনের পাশাপাশি কৃষকেরা শীতকালীন সবজির আবাদ করায় ডিএপি ও টিএসপির চাহিদা বেড়েছে। যে পরিমাণ সার পাওয়া যাচ্ছে, তা ১৫ দিনের মধ্যেই বিক্রি হয়ে যাচ্ছে।
মেহেরপুরের কুলবাড়িয়া গ্রামের কৃষক জামিরুল ইসলাম ৪ বিঘা জমিতে ফুলকপি ও ১ বিঘা জমিতে মরিচের আবাদ করেছেন। তিনিও প্রয়োজন অনুযায়ী সার সংগ্রহ করতে পারছেন না বলে জানান।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে মেহেরপুরে ডিএপি ও টিএসপি মিলিয়ে ৩ হাজার ৫৮৯ মেট্রিক টন বরাদ্দ এসেছে। জেলার সার ডিলারদের তথ্য অনুযায়ী, ইউরিয়া, এমওপি ও সালফেট সারের সরবরাহ থাকলেও ডিএপি ও টিএসপির চাহিদা তুলনামূলক বেশি।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের কর্মকর্তারা জানান, মাঠের প্রকৃত চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে সার সরবরাহ ও বিতরণ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে কৃষকদের সুষম ও পরিমিত সার ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন
সারাবাংলা/এনজে
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর