সৌদি আরবের রিয়াদ বিমানবন্দরে হুতিদের দাবি করা হামলায় তিন সৌদি নাগরিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন। সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।
সৌদি কর্তৃপক্ষের বিবৃতি অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেলে প্রথম হামলাটি বিমানবন্দরের বিভিন্ন স্থাপনায় চালানো হয়। পরে দ্বিতীয় হামলায় উড়োজাহাজ লক্ষ্যবস্তু করা হয়। তবে বিবৃতিতে হামলাকারীদের নাম উল্লেখ করা হয়নি। অন্যদিকে, হুতিরা দাবি করেছে, তারা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে বিমানবন্দরে হামলা চালিয়েছে।
নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে সৌদিয়ার (সৌদি আরবের জাতীয় বিমান সংস্থা) ক্যাপ্টেন হামুদ আলী আলকালথামি রয়েছেন বলে জানিয়েছে সৌদিয়া গ্রুপ। নতুন সামরিক অভিযান শুরুর পর সৌদি জাতীয় বিমান সংস্থার ওপর এটিই প্রথম নিশ্চিত হামলার ঘটনা বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সৌদিয়া গ্রুপের পৃথক এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, বিমানবন্দরে ভূমিতে অবস্থানরত তাদের একটি উড়োজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে ওই উড়োজাহাজে কোনো যাত্রী ছিলেন না।
বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলায় সৌদি নাগরিকসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকেরা আহত সৌদিয়া গ্রুপ জানিয়েছে, হামলার কয়েক ঘণ্টা পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টায় বিমানবন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক হয়।
এদিকে, হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াইরত সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টিতে ব্যবহৃত বিদ্রোহীদের তিনটি রকেট উৎক্ষেপণ প্ল্যাটফর্ম ধ্বংস করা হয়েছে।
ইয়েমেনের নতুন করে শুরু হওয়া গৃহযুদ্ধে দেশটির সরকারি বাহিনীকে সমর্থন দেওয়ার কারণে সৌদি আরবকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে হুতিরা। অন্যদিকে, সৌদি আরব বলছে, হুতিদের কাছ থেকে ভূখণ্ড পুনরুদ্ধারে জাতিসংঘ-স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের সামরিক অভিযানকে তারা সমর্থন দিচ্ছে।
গত এক মাসে ইয়েমেনের উপকূলীয় সমভূমিজুড়ে দ্রুত অগ্রসর হয়েছে হুতিরা। বুধবার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে তাদের অগ্রযাত্রার আরও লক্ষণ দেখা গেছে। এ সময় গোষ্ঠীটি তাইজ শহরের কাছাকাছি পৌঁছে যায়। এদিকে, চলতি সপ্তাহে রিয়াদে জ্বালানি খাতের নীতিনির্ধারকদের আন্তর্জাতিক সম্মেলন ‘ডব্লিউপিসি এনার্জি কংগ্রেস’ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।