Sunday 18 October 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

রংপুরে ২০ বছরের পুরোনো বাসে ফিটনেস সনদ দেওয়ার দাবি

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
১৮ অক্টোবর ২০২৬ ১০:৫৭

রংপুর: ২০ বছরের পুরোনো বাস ও মিনিবাসকে ফিটনেস সনদ দেওয়া থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে রংপুর বিভাগীয় বাস-মিনিবাস মোটর মালিক সমিতি। কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলছে ফিট অবস্থায় থাকা যানবাহন চলাচলের অনুমতি দেওয়া না হলে, আগামী ১ নভেম্বর থেকে রংপুর বিভাগে সর্বাত্মক ধর্মঘট পালন করা হবে। মালিকপক্ষ ২৯ অক্টোবরের মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত প্রত্যাশা করছে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাতে রংপুর নগরীর জেলা মোটর মালিক সমিতির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন রংপুর বিভাগীয় বাস-মিনিবাস মোটর মালিক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. রেজাউল করিম বসুনিয়া।

বিজ্ঞাপন

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) নীতিমালা অনুযায়ী বাস ও মিনিবাসের অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল ২০ বছর এবং ট্রাক-কাভার্ডভ্যানের জন্য ২৫ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। এই নিয়ম কার্যকর হলে সারাদেশে নিবন্ধিত প্রায় ৫৬ হাজারের বেশি বড় বাস ও ২৮ হাজারের বেশি মিনিবাস চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়বে। কিন্তু ২০২৪ সালে সারাদেশে নতুন নিবন্ধন পাওয়া বাসের সংখ্যা মাত্র ১ হাজার ৭৩৬টি, যার মধ্যে মিনিবাস মাত্র ২২০টি। এই গতিতে যানবাহন প্রতিস্থাপন করা সম্ভব হলে গণপরিবহনে মারাত্মক শূন্যতা তৈরি হবে বলে মালিকপক্ষ আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।

পরিবহন নেতারা দাবি করেন, ফিটনেস সনদ প্রদানের মূল মাপকাঠি হওয়া উচিত বাসের বর্তমান শারীরিক অবস্থা বা কন্ডিশন, বয়স নয়। তারা আরও উল্লেখ করেন যে, ২০১৮ সালের সড়ক পরিবহন আইনের ৪০ ধারা অনুযায়ী, চেসিস ছাড়া অন্যান্য যন্ত্রাংশ নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে পরিবর্তন করার সুযোগ রয়েছে। বিআরটিএর বর্তমান সিদ্ধান্ত এই আইনের সরাসরি ব্যত্যয় বলে তারা অভিযোগ করেছেন।

এ ছাড়া মালিকপক্ষ যুক্তি দিয়েছে, বিপুলসংখ্যক যানবাহন একযোগে বাতিল বা স্ক্র্যাপ করলে পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। একইসঙ্গে হাজার হাজার নতুন বাস আমদানিতে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হবে, যা দেশের রিজার্ভ ও ভঙ্গুর অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ ফেলবে। নতুন বাস কেনার চেয়ে পুরোনো বাসে নতুন পার্টস সংযোজন করে পুনঃব্যবহারযোগ্য করা অনেক বেশি সাশ্রয়ী ও যৌক্তিক বলে তারা মনে করেন।

সংবাদ সম্মেলনে রংপুর অঞ্চলের ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতার বিষয়টি তুলে ধরা হয়। বলা হয়, রংপুর বিভাগ একটি কৃষিনির্ভর এলাকা। এখানকার পরিবহন মালিকদের পক্ষে প্রায় অর্ধকোটি টাকা খরচ করে নতুন যানবাহন কেনা আর্থিকভাবে অসম্ভব। মালিকপক্ষ অভিযোগ করেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহল ও নীতিভ্রষ্ট আমদানিকারকদের সুবিধা দিতে আমলারা সরকারকে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে এই অজনপ্রিয় সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করছে।

সংবাদ সম্মেলনে রংপুর জেলা মোটর মালিক সমিতির উপদেষ্টা ও রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল, রংপুর বিভাগীয় বাস-মিনিবাস মোটর মালিক সমিতির সভাপতি ভবানী শংকর আগরওয়াল, সাধারণ সম্পাদক ওয়াসিমুল বারী রাজসহ পরিবহন নেতারা উপস্থিত ছিলেন। মালিকপক্ষ স্পষ্ট করেছে, ২৯ অক্টোবরের মধ্যে দাবি পূরণে সুনির্দিষ্ট ঘোষণা না এলে ১ নভেম্বর থেকে রংপুর বিভাগে সর্বাত্মক ধর্মঘট শুরু হবে।

সারাবাংলা/এনজে
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর