Wednesday 21 October 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

নাটোর ফিটনেস ছাড়াই চলছিল ১৪ প্রাণ নেওয়া বাসটি, তদন্ত কমিটি গঠন

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
২১ অক্টোবর ২০২৬ ১২:০১

নাটোর: নাটোর-পাবনা মহাসড়কের বড়াইগ্রামের সরকারপাড়া এলাকায় আরপি পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস ও বালু বোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ১৪ জন নিহতের ঘটনা তদন্ত ৭ সদস্যের কমিটি করেছে জেলা প্রশাসন। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবুল হায়াতের নেতৃত্বে সাত সদস্যের এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। দুর্ঘটনা কবলিত বাসটির ফিসনেস ছিলো না বলে প্রাথমিকভাবে জানিয়েছে প্রশাসন।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান জেলা প্রশাসক সুমনী আক্তার।

নিহতদের মধ্যে পরিচয় শনাক্ত হওয়া ব্যক্তিরা হলেন রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার কনোপাড়া গ্রামের বাবর আলীর ছেলে আনোয়ার হক (৩০), পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার সুবিদখালী গ্রামের মৃত শহিদুল ইসলামের মেয়ে তাছফিয়া খাতুন (৮), শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার কাজীরহাট গ্রামের ইউনুস আলীর ছেলে সোহাগ হোসেন (৩০), একই উপজেলার বড়কান্দি গ্রামের জহুর উদ্দিনের ছেলে জুয়েল রানা (৪০), ডুবিসাহেবের গ্রামের জাহান উদ্দিন মোল্লার ছেলে শালাল মোল্লা (৪৫), কাজীরহাট গ্রামের শাহিন হোসেন (২৫), জাজিরা উপজেলার সামাদ (৭০), কাশেম (৩৫) ও জহুর উদ্দিন। এ ছাড়া বাসটির চালক রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার ফরহাদপুর গ্রামের আব্দুল হাকিমের ছেলে সোহেল রানা (৪০) নিহত হয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, মহাসড়কে অন্য যানবাহনকে ওভারটেক করতে গিয়ে বাসটির সঙ্গে ট্রাকের সংঘর্ষ হয়ে থাকতে পারে। দুর্ঘটনায় বাস ও ট্রাকের চালকও নিহত হয়েছেন।

নাটোর বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ খোঁজ নিয়ে জানিয়েছে, দুর্ঘটনাকবলিত আরপি পরিবহনের বাসটির ফিটনেসের মেয়াদ শেষ হয়েছে চলতি বছরের ১৩ মে। তবে বাসটির রুট পারমিট বহাল আছে ২০২৮ সালের ১৩ মে পর্যন্ত। ফিটনেসবিহীন বাসটি এতোদিন কিভাবে মহাসড়কে চলছিল তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

এদিকে, সকালে দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থল সরকারপাড়ায় ছুটে যান জেলা প্রশাসক সুমনী আক্তার ও পুলিশ সুপার শরীফুল হক। এ সময় জেলা প্রশাসক নিহতদের প্রত্যেককে ২৫ হাজার টাকা করে প্রদানের ঘোষণা দেন। পুলিশ সুপার শরীফুল হক ফিটনেসবিহীন যান চলাচলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানান।

নাটোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মাহাবুবুর রহমান বলেন, দুর্ঘটনার পর সকালে আহত অবস্থায় ৯ জন ভর্তি হয়। এর মধ্যে ২ জন চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছে। বাকি ৭ জনের মধ্যে ৩ জনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে। বাকি ৪ জন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে।

জেলা প্রশাসক সুমনী আক্তার বলেন, মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনায় কি কারনে ঘটেছে তার তদন্তে কমিটি করা হয়েছে। কমিটি যেসকল পর্যবেক্ষণ দেবে, সে অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এদিকে, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জাতীয় সংসদের হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেন, প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে নিহত পরিবারগুলোকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। দুর্ঘটনা রোধে পাবনা-বনপাড়া মহাসড়কটি প্রশস্ত করার উদ্যেগ নেওয়া হবে।’

সারাবাংলা/এনজে
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর