Thursday 22 October 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

রংপুরে জমি-মন্দির বিরোধে বিসর্জনে বাধা, রাতভর উত্তেজনা

ডিস্টিক্ট করেসপন্ডেন্ট
২২ অক্টোবর ২০২৬ ১৪:৩১

বিজয়া দশমী পেরিয়ে গেলেও বিসর্জন দেওয়া হয়নি।

রংপুর: রংপুর নগরীর ঠিকাদারপাড়ায় জমির মালিকানা ও মন্দিরের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধের জেরে বিজয়া দশমী পেরিয়ে গেলেও দুর্গাপ্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়নি।

বুধবার (২১ অক্টোবর) রাত থেকে বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুর পর্যন্ত টানা উত্তেজনা, সড়ক অবরোধ ও পালটা-পালটি অবস্থানের কারণে প্রতিমাগুলো ফিরিয়ে মন্দিরেই রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এক প্লাটুন বিজিবিসহ অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, রংপুর মহানগরের ঠিকাদারপাড়ায় দশরথ চন্দ্রের তিন শতক জমিতে ২০০৭ সাল থেকে অস্থায়ী মণ্ডপে দুর্গাপূজা হয়ে আসছিল। চলতি বছর পূজা উদযাপন কমিটি দুর্গাপূজার পর ওই স্থানে কালী প্রতিমাসহ অন্যান্য প্রতিমা স্থাপন করে স্থায়ী মন্দির নির্মাণের প্রস্তুতি নেয়। এতে জমির মালিক দশরথ ও তার পরিবার আপত্তি জানায়। বুধবার প্রতিমা বিসর্জনের সময় সব প্রতিমা সরিয়ে মন্দির খালি করার দাবি জানালে পূজা কমিটির সঙ্গে বিরোধ তীব্র হয়।

বিজ্ঞাপন

এর আগে, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ে জেলা পূজা উদযাপন কমিটি ও স্থানীয় নেতাদের একটি বৈঠক হয়। সেখানে সিদ্ধান্ত হয় এবারের মতো পূজা হবে এবং বিসর্জনের পর সীমানাপ্রাচীর দিয়ে জমি মালিককে বুঝিয়ে দেওয়া হবে। জমির মালিকপক্ষ সেই সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছিল। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, বিজয়া দশমীর বিকেলে পূজা কমিটির একটি পক্ষ জমিটি স্থায়ীভাবে দখলে নেওয়ার চেষ্টা করে এবং চারটি প্রতিমার মধ্যে দুটি বিসর্জন দিয়ে বাকি দুটি রেখে দেওয়ার ঘোষণা দেয়।

এ নিয়ে স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েন। এক পক্ষ জমির মালিকের দাবির পক্ষে অবস্থান নেয়, অপর পক্ষ বিসর্জন না দেওয়ার দাবিতে অনড় থাকে। বিকেল পাঁচটা থেকে বিসর্জনের জন্য ট্রাক প্রস্তুত থাকলেও পূজা কমিটির সভাপতি প্রাণকৃষ্ণ গোস্বামী ও সাধারণ সম্পাদক কমল গোস্বামী প্রতিমা সরানোর বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। দুই পক্ষের মধ্যে কয়েক দফা ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

খবর পেয়ে রাতে ঘটনাস্থলে যান রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের যুগ্ম কমিশনার তোফায়েল আহাম্মেদ, বিজিবি ও সেনাসদস্যরা। তারা কয়েক দফা মধ্যস্থতার চেষ্টা করলেও পূজা কমিটির নেতারা প্রতিমা সরাতে রাজি হননি। রাত তিনটা পর্যন্ত সড়ক অবরোধ ও হট্টগোল চলতে থাকে। শেষে বিসর্জন না দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে পূজা কমিটির নেতারা স্থান ত্যাগ করেন।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত অচলাবস্থা কাটেনি। কোতোয়ালি থানার তদন্ত কর্মকর্তা মিলন চ্যাটার্জি জানান, পূজা কমিটি প্রতিমা বিসর্জন দিতে চাইলেও মন্দির খালি করতে রাজি নয়; অন্যদিকে জমির মালিকপক্ষ সব প্রতিমা সরিয়ে জমি ফেরত দাবি করছে। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে শোভাযাত্রা থেকে প্রতিমা ফিরিয়ে মন্দিরে রাখা হয়। দুপুর পর্যন্ত দুই পক্ষের সম্মতিতে সমাধানের চেষ্টা চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক কমল গোস্বামী দাবি করেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে ওই স্থানে পূজা করে আসছেন এবং ভবিষ্যতেও করতে চান। জমিটির মালিক তারা না হলেও এটি নিয়ে আদালতে মামলা চলছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। অন্যদিকে রংপুর মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান শামু অভিযোগ করেন, একটি কুচক্রী মহল ও আওয়ামী লীগের কিছু নেতা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে দুটি প্রতিমা রেখে দেওয়ার অন্যায় দাবি তুলেছে।

পুলিশের যুগ্ম কমিশনার তোফায়েল আহাম্মেদ বলেন, পুলিশ কমিশনারের হস্তক্ষেপে শান্তিপূর্ণ পূজার পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। এখন পক্ষগুলো বারবার অবস্থান পরিবর্তন করছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও বিশৃঙ্খলা এড়াতে এলাকায় প্রয়োজনীয় পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর