‘বাংলাদেশ স্তন ক্যানসার সচেতনতা ফোরাম’-এর উদ্যোগে অক্টোবর মাসব্যাপী পরিচালিত সচেতনতা ও স্ক্রিনিং কর্মসূচির সমাপনী এবং বৈজ্ঞানিক অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) বিকেলে দিনাজপুরের জিয়া হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালের কনফারেন্স হলে এই অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। জিয়া হার্ট ফাউন্ডেশন ও খুরশীদ জাহান হক ইনস্টিটিউট অব ক্যানসার রিসার্চ এন্ড হসপিটাল যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সমাজকল্যাণ এবং নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন ফোরামের দীর্ঘদিনের দীর্ঘমেয়াদী ও নিরলস কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, স্তন ক্যান্সার সচেতনতায় ফোরাম মূলত সরকারেরই দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। এ সময় তিনি ফোরাম ও হাসপাতালের কার্যক্রমে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহায়তার আশ্বস্ত প্রদান করেন এবং খুরশীদ জাহান হক ইনস্টিটিউট উত্তরাঞ্চলের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ক্যানসার সেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
সমাপনী ও বৈজ্ঞানিক অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ স্তন ক্যান্সার সচেতনতা ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান সমন্বয়কারী এবং খুরশীদ জাহান হক ইনস্টিটিউট অব ক্যানসার রিসার্চ এন্ড হসপিটালের অবৈতনিক উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন।
অক্টোবর মাসজুড়ে বাংলাদেশ স্তন ক্যান্সার সচেতনতা ফোরাম ও এর সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আলোচনা সভা, পথসভা, গোলাপি সড়ক শোভাযাত্রা এবং বাংলায় লিখিত তথ্যসমৃদ্ধ লিফলেট বিতরণ করা হয়। এর অংশ হিসেবে গত ২৯ ও ৩০ অক্টোবর দুই দিনব্যাপী দিনাজপুর জেলার প্রতিটি উপজেলায় পথসভা ও সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি পালিত হয়।
অনুষ্ঠানে ফোরামের এক মাসের ধারাবাহিক সচেতনতামূলক কার্যক্রমের ওপর প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন অধ্যাপক ডা. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন। তিনি ঘোষণা দেন, এখন থেকে ফোরামের উদ্যোগে প্রতি মাসে দেশের একটি নির্দিষ্ট জেলায় দিনাজপুরের মতো সবকটি উপজেলায় মাঠপর্যায়ে সচেতনতা কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।
খুরশীদ জাহান হক ইনস্টিটিউট অব ক্যান্সার রিসার্চ এন্ড হসপিটালের অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরে অধ্যাপক রাসকিন জানান, হাসপাতালের অস্থায়ী ভবনে ইতোমধ্যে বহির্বিভাগ সেবা চালু হয়েছে, যেখানে প্রতিদিন ২ জন মেডিকেল অফিসার এবং ১ জন অনকোলজিস্ট নিয়মিত ক্যানসার রোগীদের চিকিৎসা দিচ্ছেন। আগামিকাল থেকে বাছাই করা রোগীদের ডে-কেয়ার সেন্টারে কেমোথেরাপি দেওয়া শুরু হবে। আগামি তিন মাসের মধ্যে ইনডোরসহ তিরিশ শয্যায় উন্নীত করা হবে। সরকারের কাছে হাসপাতালের নিজস্ব জমিতে রেডিওথেরাপির বাংকারসহ ভবন নির্মাণ ও যন্ত্রপাতি ক্রয়ের তহবিলের জন্য উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব জমা দেয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথি অধ্যাপক ডা. জাহিদ হোসেন জিয়া হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালের নবনির্মিত কেবিন ব্লকের ফলক উন্মোচন করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মো. আখতারুজ্জামান মিয়া (হুইপ, জাতীয় সংসদ) ও অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস (মহাপরিচালক, স্বাস্থ্য অধিদফতর)। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন খুরশীদ জাহান হক ইনস্টিটিউট-এর সহ-সভাপতি একে এম আজাদ।