।। সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট।।
ঢাকা: জাতীয় ঈদগাহের ঈদ জামাত শেষ হতে না হতেই কদম ফোয়ারার পাশে ছোট্ট ছেলে চে’গুয়েভারা জুনিয়রকে নিয়ে দাঁড়িয়ে যান আবু তৈয়ব। তার হাতে কোটা আন্দোলন নেতা লুৎফুন নাহার লুমার মুক্তির দাবি সম্বলিত একটি ছোট্ট ফেস্টুন। আর ছেলে চে’র হাতে প্রখ্যাত আলোকচিত্রী শহিদুল আলমের।
শান্তি ও আর মুক্তির ঈদে এ দু’জন নাগরিকের মুক্তির দাবিতে আবু তৈয়বের এটি শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ। তাকে ঘিরে দেশি-বিদেশি মিডিয়াকর্মীদের আগ্রহও ছিল।
আবু তৈয়ব জানান, আজকে ঈদের দিনেও তাদের মুক্তি নেই। তারা তো এ দেশেরই নাগরিক। তাই একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে তাদের প্রতি আমার সমর্থন ব্যক্ত করছি। দেশের শান্তিকামী নাগরিকদের প্রতিনিধি আমি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এ শিক্ষার্থী বলেন, শহিদুল আলম একজন খ্যাতিমান ফটোসাংবাদিক। কারাগারে তার ঈদ কাটছে। তার মতো আরও অনেকেই আছেন যারা বিনা দোষে জেল খাটছেন।
এ সময় বাবা ও ছেলে মিলে লুমা ও শহিদুলের মুক্তির জন্য স্লোগানও দিচ্ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত ৫ আগস্ট রাতে শহিদুল আলমকে তার বাসা থেকে তুলে নিয়ে যায় গোয়েন্দা পুলিশ। পরদিন ৬ আগস্ট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনকে নিয়ে অসত্য তথ্য ছড়ানো, উসকানি দেওয়া ও সরকারবিরোধী বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) আইনের ৫৭ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়। ওই দিনই আদালত তার সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পরে হাইকোর্টে রিমান্ড আদেশ চ্যালেঞ্জ করে রিট দায়ের করা হলে হাইকোর্ট তাকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির নির্দেশ দেন। সেখানে তার স্বাস্থ্য পরীক্ষাও করা হয়। ১২ আগস্ট রিমান্ড শেষে শহিদুল আলমকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন ঢাকা মহানগর হাকিম ফাহ্দ বিন আমিন চৌধুরী। এরই মধ্যে নেয়াম চমস্কি, অরুন্ধতী রায়, নোবেলজয়ী ১১ ব্যক্তিসহ বিভিন্ন দেশের আলোকচিত্রী, সাংবাদিক, লেখক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা শহিদুল আলমের মুক্তি চেয়ে বিবৃতি দিয়েছেন।
অন্যদিকে, সরকারি চাকরিতে বিদ্যমান কোটা ব্যবস্থার সংস্কারের আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহবায়ক লুৎফুন্নাহার লুমা ওরফে নীলাকে গত ১৫ আগস্ট তার দাদার বাড়ি সিরাজগঞ্জের বেলকুচি থানা এলাকার বড়ধুল ইউনিয়নের খিদ্রচাপড়ীচর গ্রাম থেকে গ্রেফতার করে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল (সিটিটিসি) ইউনিট। গত ৫ আগস্ট রমনা থানায় আইসিটি আইনের ৫৭ ধারায় দায়ের করা একটি মামলায় লুমাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। লুমা ইডেন মহিলা কলেজের ২০১৪-১৫ সেশনের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী। গ্রেফতারের পর তাকে ঢাকায় এনে আদালতে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
সারাবাংলা/এমএস/টিআর