।। সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট ।।
ঢাকাঃ একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় হত্যা ও ধর্ষণের দুই অভিযোগে ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ার রিয়াজ উদ্দিন ফকিরকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া অপহরণ করে নির্যাতন ও হত্যার আরও দু্ইটি অভিযোগে তাকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।
বৃহস্পতিবার (১০ মে) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এই রায় দেন।
একাত্তরে মানবতারিরোধী কর্মকাণ্ডের ৪ টি অভিযোগের মধ্যে ৩ ও ৪ নম্বর অভিযোগে ফুলবাড়িয়ার আলবদর বাহিনীর এই প্রধানকে ৩ ও ৫ নম্বর অভিযোগে মৃত্যদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ১ ও ৫ নম্বর অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
আসামি রিয়াজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে চারটি অভিযোগ রয়েছে। ১ ও ৫ নম্বর অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং ৩ ও ৪ নম্বর অভিযোগ মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ মামলার তিন আসামি ছিলেন। এর মধ্যে একজন মারা যাওয়ায় ২ নম্বর অভিযোগ বাদ দেওয়া হয়েছে
মৃত্যুদণ্ড দেওয়া দুই অভিযোগে একটিতে বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালে আলবদর বাহিনীর সহায়তায় ফুলবাড়িয়া বালুকযান ব্রিজে ১৩ জনকে জবাই করে ও ৩০ জনকে গুলি করে হত্যা করে রিয়াজউদ্দিন।
অপর অভিযোগে বলা হয়েছে, এই আসামী ফুলবাড়িয়ার ঋষিপাড়ায় ১৩ জনকে ধরে নিয়ে হত্যা করে।
এর আগে বুধবার (৯ মে) মামলাটি রায়ের জন্য আজকের দিন ঠিক করেন।

রিয়াজ উদ্দিন ফকির (ফাইল ছবি)
এর আগে, উভয়পক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে গত ২১ মার্চ এ মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমান রাখা হয়। এ মামলায় ট্রাইব্যুনাল প্রসিকিউটর ছিলেন ঋষিকেশ সাহা। অন্যদিকে, আসামিপক্ষে ছিলেন সৈয়দ মিজানুর রহমান ও মুজাহিদুল ইসলাম শাহিন।
২০১৬ সালের ১১ ডিসেম্বর এ মামলায় পাঁচটি অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযোগ গঠন করে ট্রাইব্যুনাল। এরপর সাক্ষীদের জবানবন্দি, জেরা ও যুক্তি উপস্থাপনের মধ্যে দিয়ে মামলাটি শেষ হয়।
এ মামলায় শুরুতে তিনজন আসামি ছিলেন। এর মধ্যে আমজাদ আলী গ্রেপ্তারের পর মারা যাওয়ায় তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনা হয়নি। আর অভিযোগ গঠনের আগে পলাতক আসামি ওয়াজ উদ্দিন মারা যাওয়ায় তাকেও অভিযোগ থেকে বাদ দেওয়া হয়। মামলার একমাত্র আসামি রিয়াজ উদ্দিন কারাগারে আছেন।
সারাবাংলা/ইউএইচ/টিআর/জেডএফ