।। স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট।।
চট্টগ্রাম ব্যুরো: দেশের অর্থনীতির হৃৎপিন্ড চট্টগ্রাম বন্দরের প্রাণপ্রবাহ কর্ণফুলী নদীকে দখল ও দূষণের হাত থেকে বাঁচাতে প্রতিবছরের মতো এবারও অনুষ্ঠিত হয়েছে সাম্পান বাইচ। ঐতিহ্যবাহী এই খেলা দেখতে নদীপাড়ে জড়ো হন বিভিন্ন বয়সী হাজারো মানুষ। নদীর দুই পাড়জুড়ে যেন বসেছিল মানুষের মিলনমেলা।
টান টান উত্তেজনার এই খেলায় অংশ নিয়ে গত চার বছরের মতো এবারও শিরোপা জিতে নিয়েছে জাহাঙ্গীর মাঝিও তার দল।
বৃহস্পতিবার (১০ মে) বিকেলে কর্ণফুলী নদীতে এই সাম্পান বাইচ অনুষ্ঠিত হয়। সাম্পান এক বিশেষ ধরণের নৌকা, যা কর্ণফুলী নদীতেই আদিকাল থেকে বেশি চলে আসছে। কর্ণফুলী এবং সাম্পানকে ঘিরে এই অঞ্চলের কৃষ্টি ও সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে।
কর্ণফুলী নদী রক্ষায় চট্টগ্রাম আঞ্চলিক সাংস্কৃতিক একাডেমি দ্বাদশ বারের মতো এই বাইচের আয়োজন করেছে। চট্টগ্রাম বন্দরের সদস্য (প্রশাসন) জাফর আলম এর উদ্বোধন করেন।
পটকার শব্দে শুরু হয় বাইচ। ছয়টি সাম্পান এতে অংশ নেয়। প্রতিটিতে নয়জন করে মাঝিমাল্লা।

চট্টগ্রাম নগরীর অভয়মিত্র ঘাট থেকে দক্ষিণ তীরের চরপাথরঘাটা। ছুটে চলে সাম্পান। দুর্বার গতিতে। বৈঠা বাওয়া সাম্পানের পেছন পেছন ছুটছে আরও শত শত ইঞ্জিনের সাম্পান। সাম্পানে বাজছে গান, বাদ্যবাজনা। নদীতীরে জড়ো হওয়া মানুষগুলোর মধ্যে উল্লাস।
প্রতিযোগিতায় পঞ্চমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয়েছে জাহাঙ্গীর মাঝি। দ্বিতীয় ও তৃতীয় হয়েছে যথাক্রমে শিকলবাহার শেখ আহম্মদ মাঝি ও মাস্টার হাটের ইব্রাহিম মাঝি।
আঞ্চলিক সাংস্কৃতিক একাডেমির পরিচালক আলীউর রহমান সারাবাংলাকে বলেন, সাম্পান বাইচ এখন একটা উৎসবে পরিণত হয়েছে। নদীতীরের মানুষের কাছে এটা একটা উৎসব। প্রতিবছর এখানকার বাসিন্দারা অপেক্ষায় থাকেন, কখন সাম্পান বাইচ হবে। মানুষকে সম্মিলিত করার এই শক্তি দিয়ে আমরা কর্ণফুলীকে বাঁচানোর আন্দোলন এগিয়ে নিতে চায়।
সাম্পান বাইচে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি কলিম সরওয়ার, ডায়মন্ড সিমেন্টের পরিচালক লায়ন হাকিম আলী এবং সাম্পান খেলা ও চাটগাঁইয়া সংস্কৃতি মেলার প্রধান সমন্বয়ক চৌধুরী ফরিদ।
সারাবাংলা/আরডি/একে