।। এ বি এম নিজাম উদ্দিন, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট।।
লক্ষ্মীপুর: গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে রবি শস্যের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে সয়াবিনের রাজধানী খ্যাত লক্ষ্মীপুরে। সয়াবিন, বাদাম ও মরিচসহ নষ্ট হয়ে গেছে প্রায় সাড়ে ৭ কোটি টাকার ফসল। ঘরে তোলার আগেই মাঠের এসব ফসলের ক্ষতি হওয়ায় বিপাকে পড়েছে কৃষকরা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, বর্তমান মৌসুমে বৃষ্টিপাত হওয়ায় কৃষকের ৪৬ হাজার ৭৩০ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। যার বাজার মূল্য প্রায় সাড়ে ৭ কোটি টাকা।

সরেজমিনে দেখা যায়, লক্ষ্মীপুরে গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে রবি শস্যের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পানিতে ডুবে গেছে ৫৬০ হেক্টর সয়াবিনসহ প্রায় দেড় হাজার হেক্টর জমির ফসল। পচন ধরেছে বাদাম ডাল ও মরিচসহ মাঠের বিভিন্ন ফসল। সবচেয়ে বেশি ফসলের ক্ষতি হয়েছে সদরের শাকচর, চররুহিতা, ভবানীগঞ্জ, তেওয়ারীগঞ্জ, সুতারগুপ্তা, কমলনগরের চরকালকিনি, হাজিরহাট, রামগতির বড়খেরি এলাকা। এসব এলাকার কৃষকরা কৃষি ঋণ নিয়ে সয়াবিন, বাদাম ও মরিচসহ বিভিন্ন ফসল চাষ করেছে। চোখের সামনেই কষ্টার্জিত ফসল হারিয়ে বিপাকে পড়েছে তারা। এছাড়া ঋণের টাকা পরিশোধ নিয়ে চিন্তিত-দিশেহারা কৃষকরা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য মতে, এবার জেলায় ৪৬ হাজার ৭৩০ হেক্টর জমিতে সয়াবিন, বাদাম, মরিচ ও ডালসহ বিভিন্ন ফসলের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে শুধু ৪২ হাজার ২৭০ হেক্টর জমিতে সয়াবিন চাষ করা হয়েছে। যার তিন ভাগের দু’ভাগই বৃষ্টির পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে। এখানে উল্লেখ্য, দেশের ৮০ ভাগ সয়াবিনের উৎপাদন হয় লক্ষ্মীপুরে।
কৃষকরা জানান, ব্যাংক ও মহাজন থেকে ঋণ নিয়ে সয়াবিন চাষ করেন তারা। ফলনও হয়েছে ভালো। কিন্তু গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টির কারণে পাকা ও আধা-পাকা সয়াবিন পানিতে ডুবে গেছে। এতে করে বড় ধরনের লোকসান গুনতে হচ্ছে তাদের। তবে কোথাও কোথাও সয়াবিন তুলতে পারলেও বেশির ভাগ সয়াবিনই নষ্ট হয়ে যায়।

চররুহিতা এলাকার কৃষক কবির হোসেন জানান, ধারদেনা করে বাদাম চাষ করেছি। গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে সব নষ্ট হয়ে গেছে। এখন দেনা পরিশোধ নিয়ে চিন্তিত আছি।
চররুহিতার আরেক কৃষক আবু তাহের বলেন, ৮০ শতক জমিতে সয়াবিন চাষ করেছিলাম। এখন সব পানির নিচে। ধার করে জমি চাষ করেছিলাম, এখন কী করব জানি না।

সাতচর এলাকার কৃষক শফিউল্লাহ বলেন, বৃষ্টির কারণে আমাদের ফসল নষ্ট হয়েছে। সয়াবিনের ফলন খুব ভালো হয়েছিল। কিন্তু বৃষ্টিতে সব শেষ। জমি থেকে এখন শুধু পচা গন্ধ।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক মো. বেলাল হোসেন জানান, শস্য ও ফসল ক্ষতির বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য আমরা ব্যবস্থা নেব।
সারাবাংলা/টিএম