Sunday 08 November 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে উষ্ণতম বছর ২০২৪

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১০ জানুয়ারি ২০২৫ ১৭:৪৫
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

জলবায়ু চুক্তির প্রধান লক্ষ্য ছিল বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি ২ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডের মধ্যে রাখা। সম্ভব হলে ১ দশমিক ৫ ডিগ্রির মধ্যে রাখার চেষ্টা করা। কিন্তু ২০২৪ সালেই প্রথমবারের মতো প্রাক-শিল্প যুগের তুলনায় বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে গেছে। যা পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে উষ্ণতম বছর হিসেবে গণ্য হচ্ছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোপারনিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিস (সিথ্রিএস)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের গড় তাপমাত্রা শিল্পপূর্ব যুগের সময়ের তুলনায় ১.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল। ২০২৩ সালের তুলনায় এটি ০.১ ডিগ্রি বৃদ্ধি পেয়েছে, যা আধুনিক মানব ইতিহাসে প্রথমবারের মতো রেকর্ড তাপমাত্রা।

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার (১০ জানুয়ারি) যুক্তরাজ্যভিত্তিক পত্রিকা দ্য গার্ডিয়ানে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য প্রচারিত হয়েছে।

এই উষ্ণায়নের মূল কারণ জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার। কয়লা, তেল এবং গ্যাসের ব্যবহার বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত এই ক্ষতি অব্যাহত থাকবে। প্যারিস চুক্তি অনুযায়ী ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের লক্ষ্য দীর্ঘমেয়াদে মাপা হয়, তাই এক বছরের জন্য তা অতিক্রম করা মানে লক্ষ্য হারিয়ে যাওয়া নয়। তবে এই উষ্ণায়নের কারণে জলবায়ু সংকট ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। গত এক দশকের প্রতিটি বছর রেকর্ডের মধ্যে ১০টি উষ্ণতম বছরের একটি ছিল ২০২৪।

গ্রাফিক্সের মাধ্যমে বিগত বছরগুলোতে তাপমাত্রা বৃদ্ধির পরিমাণ উপস্থাপন। ছবি: দ্য গার্ডিয়ান

২০২৪ সালের ১০ জুলাই বিশ্বব্যাপী ৪৪ শতাংশ অঞ্চল চরম তাপমাত্রায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল এবং ২২ জুলাই ছিল রেকর্ড করা ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণ দিন।

সিথ্রিএসের উপপরিচালক ড. সামান্থা বার্জেস বলেন, ‘আমরা এখন প্রায় নিশ্চিত যে দীর্ঘমেয়াদী গড় তাপমাত্রা ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করবে। ২০২৪ সালে বিশ্বজুড়ে নজিরবিহীন তাপপ্রবাহ এবং ভারী বৃষ্টিপাতের ঘটনা লাখ লাখ মানুষের জন্য দুর্ভোগ সৃষ্টি করেছে।’

ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের ড. ফ্রিডেরিকে অটো বলেন, ‘এই রেকর্ড আমাদের বাস্তবতার সামনে দাঁড় করিয়েছে। ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস উষ্ণতায় জীবন কতটা বিপজ্জনক তা এই বছর দেখিয়েছে। ভ্যালেন্সিয়ার বন্যা, যুক্তরাষ্ট্রের হারিকেন, ফিলিপাইনের টাইফুন এবং আমাজনের খরা এই সংকটের উদাহরণ মাত্র। এ ছাড়া আরও অনেক দুর্যোগ ঘটেছে বিশ্বজুড়ে।’

২০২৪ সালে কার্বন নিঃসরণও নতুন রেকর্ড গড়েছে, যা দেখায় যে জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সরে আসার কোনো স্পষ্ট প্রমাণ এখনও নেই। বর্তমান গতিতে চললে শতাব্দীর শেষ নাগাদ বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ২.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাবে।

জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে ২০৩০ সালের মধ্যে ৪৫ শতাংশ হ্রাস করতে না পারলে ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস সীমায় থাকা অসম্ভব হয়ে পড়বে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তাপমাত্রার প্রতিটি ডিগ্রি বৃদ্ধি মানুষের জীবন ও পরিবেশের উপর আরও বেশি ক্ষতিকর প্রভাব ফেলবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, উষ্ণায়নের গতিবৃদ্ধি এবং চরম আবহাওয়ার প্রভাব থেকে রক্ষা পেতে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার বন্ধ করে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে দ্রুত অগ্রসর হওয়া প্রয়োজন।

সারাবাংলা/এনজে
বিজ্ঞাপন

‘যকের ধন’-এর ‘যক’ কারা!
৮ নভেম্বর ২০২৬ ১৬:০৫

আরো