Sunday 15 Mar 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

তেহরানের বদলে ‘মাকরান’ হতে যাচ্ছে ইরানের রাজধানী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১১ জানুয়ারি ২০২৫ ০৯:১৮ | আপডেট: ১১ জানুয়ারি ২০২৫ ১২:৫২

তেহরানে উদয়মান ইরানের পতাকা। ছবি: সংগৃহীত

ইরানের প্রেসিডেন্ট প্রশাসন দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় মাকরান অঞ্চলকে নতুন রাজধানীর সম্ভাব্য স্থান হিসেবে প্রস্তাব করেছে। তবে এই পরিকল্পনা নিয়ে দেশজুড়ে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।

মঙ্গলবার (৭ জানুয়ারি) দেশটির সরকারের মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি নতুন রাজধানী মাকরানে স্থানান্তরিত হবে বলে গণমাধ্যমকে জানান।

ইরানের বর্তমান রাজধানী তেহরানে পানির তীব্র সংকট, দূষণ এবং ভূমিকম্পের ঝুঁকি এড়ানোর জন্যেই মূলত এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনালের প্রচারিত তথ্যমতে জানা গেছে।

তবে বুধবার (৮ জানুয়ারি) প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের নির্বাহী উপদেষ্টা জাফর ঘায়েমপানাহ সাংবাদিকদের বলেন, মাকরানে রাজধানী সরানোর বিষয়টি শুধু একটি ধারণা, এবং এ নিয়ে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।

বিজ্ঞাপন

মাকরান একটি ঐতিহাসিক ও ভৌগোলিক অঞ্চল। এটি দক্ষিণ-পূর্ব ইরান থেকে পাকিস্তানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ উপকূলীয় এলাকা নিয়ে গঠিত। ইরানের অংশটি সিস্তান ও বালুচিস্তান প্রদেশে অবস্থিত, যা দেশের সবচেয়ে বড়, কিন্তু সবচেয়ে অবহেলিত ও জনবিরল প্রদেশ।

এই অঞ্চলের উপকূলীয় শহরগুলোর মধ্যে চাবাহার সবচেয়ে বড় এবং এটি ইরানের নয়টি মুক্ত বাণিজ্য শিল্পাঞ্চলের একটি।

গত তিন দশক ধরেই ইরান তেহরান থেকে রাজধানী সরানোর চিন্তা করছে। তেহরান দুটি প্রধান ভূমিকম্প প্রবণ ফাটলের ওপর অবস্থিত, যা শহরটিকে মারাত্মকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।

২০১৫ সালে ইরানের পার্লামেন্ট একটি আইন পাস করে রাজধানী সরানোর সম্ভাব্য পরিকল্পনা নিয়ে গবেষণার নির্দেশ দেয়। তবে এই গবেষণা এখনও শেষ হয়নি।

মাকরান অঞ্চল সরাসরি ভারত মহাসাগরের সঙ্গে সংযুক্ত এবং এর ভৌগোলিক অবস্থান বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। চাবাহার বন্দর আফগানিস্তান এবং মধ্য এশিয়ার বাজারের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ প্রদান করতে পারে।

তবে, অঞ্চলটি মরু এলাকা হওয়ায় বসবাসের উপযোগী করতে বিশাল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করতে হবে, বিশেষত সমুদ্রের পানি বিশুদ্ধ করে পানীয় জল সরবরাহের জন্য। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নে কয়েক বিলিয়ন ডলারের প্রয়োজন, যা ইরানের বর্তমান পরিস্থিতিতে অসম্ভব।

তাছাড়া, মাকরানের সীমান্তবর্তী অবস্থান এবং নিরাপত্তা উদ্বেগ এটিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।

সারাবাংলা/এনজে
বিজ্ঞাপন

আরো