আমরা আর ফ্যাসিবাদের বাংলাদেশ দেখতে চাই না: জামায়াত আমির
২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১৭:১৬ | আপডেট: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ২১:৫৪
পঞ্চগড়: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা এ দেশকে আর গডফাদার-গডমাদার, মাফিয়াতন্ত্র ও ফ্যাসিবাদের বাংলাদেশ হিসেবে দেখতে চাই না।’
বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে পঞ্চগড় চিনিকল মাঠে জেলা জামায়াতে ইসলামী আয়োজনে এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘ভারত আমাদের নিকটতম প্রতিবেশী। আমরা আমাদের প্রতিবেশীকে অহেতুক কষ্ট দিতে চাই না। তবে আমাদের প্রতিবেশীও যাতে আমাদের ওপর এমন কিছু চাপিয়ে না দেয়, যা বাংলাদেশের মানুষের জন্য সম্মানজনক নয়। যদি এ রকম তারা কিছু করে, দেশের স্বার্থে আমরা সেদিন ভূমিকা পালন করতে কারো চোখের দিকে তাকাবো না। আমরা বিবেকের দিকে তাকিয়ে, বিবেকের দায়বদ্ধতা থেকে দায়িত্ব পালন করতে বাধ্য হব।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ এবং জাতিসংঘ যৌথ উদ্যোগে ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত যত ঘটনা ঘটেছে এ রকম সেগুলো অনুসন্ধান করে একটি শ্বেতপত্র প্রকাশ করা হোক। তাহলে জনগণ জানতে পারবে, কারা সত্যিকার অর্থে মানুষ খুন করেছে, ইজ্জ্বত লুণ্ঠন করেছে এবং সম্পদ লুণ্ঠন করেছে।’
জামায়াত আমির বলেন, ‘কিসের সংখ্যালঘু আর কিসের সংখ্যাগুরু। এ দেশে যেই জন্ম নিয়েছে, সেই এ দেশের গর্বিত নাগরিক। আমরা নাগরিকদের ভাগ বাটোয়ারা কোনো ধর্ম বা দলের ভিত্তিতে করার পক্ষে নই। অতীতের পতিত স্বৈরাচারী জাতিকে ভেঙ্গে বিভক্ত করে মুখোমুখি করে রেখেছিল। যে দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ থাকতে পারে না, সে দেশের মানুষ মাথা সোঁজা করে বিশ্ব দরবারে সম্মানের সঙ্গে দাঁড়াতে পারে না। স্বাধীনতার ৫৪ বছর গেল, আর কতদিন আমাদেরকে বিভক্ত করা হবে। আমাদের স্পষ্ট ঘোষণা আমরা কোনো মেজরিটি বা মাইনরিটি মানি না।’
২০২২ সালের পঞ্চগড়ে ভয়াবহ নৌকাডুবির ঘটনায় হিন্দু সম্প্রদায়ের নিহত ৭২ জনের পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘তোমাদেরকে আমরা আমাদের পরিবারের সদস্য হিসেবে ধারণ করলাম। যতদিন বেঁচে থাকি, সেই অনুভূতি নিয়ে বেঁচে থাকব ইনশাল্লাহ। আমরা বাংলাদেশকে একটি মানবিক দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।’
জেলা জামায়াত আমির অধ্যাপক ইকবাল হোসাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বেলাল, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি জাগপার চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান প্রমুখ। এর আগে জেলার ৫ উপজেলা ও পৌরসভা, ইউনিয়ন থেকে ছোট ছোট মিছিল নিয়ে জনসভায় আসেন জামায়াত, শিবির ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
সারাবাংলা/এইচআই