নারী-শিশুদের প্রতি বাড়তে থাকা সহিংসতা উদ্বেগজনক: সালাহউদ্দিন আহমেদ
৮ মার্চ ২০২৫ ১৫:৫০ | আপডেট: ৮ মার্চ ২০২৫ ১৭:৩৫
বিশ্ব নারী দিবস উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল আয়োজিত আলোচনা সভা।
ঢাবি: গত কয়েকদিন ধরে চলমান নারী ও শিশুদের প্রতি বাড়তে থাকা সহিংসতা উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ।
তিনি বলেছেন, বর্তমানের নারী ও শিশুদের প্রতি বাড়তে থাকা সহিংসতা উদ্বেগজনক। আমরা এর নিন্দা জানাই। আমরা যদি এখনই এই পরিস্থিতির উন্নতি করতে না পারি তাহলে দেশে বিদেশে আমাদের ভাবমূর্তি নষ্ট হবে। এর জন্য তদন্ত করুন। এ সকল অপকর্মের সাথে কোনো পতিত ফ্যাসিবাদী শক্তি জড়িত কিনা তাও খুঁজে দেখুন।
শনিবার (৮ মার্চ) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) টিএসসিতে বাংলাদেশের বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার সংগ্রামী নারী এবং জুলাইয়ের নারী শহীদ ও আন্দোলনকারীদের প্রতি বিশেষ সম্মানে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল আয়োজিত বই মেলা, নারী উদ্যোক্তাদের স্টল ও আলোচনা সভায় বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, নারীরা সকল সংগ্রামে সামনে থেকেছে। আমাদের দলের পক্ষ থেকে আমাদের প্রতিশ্রুতি আছে যে নারী ও সমাজের অন্যান্যদের ক্ষমতায়ন করা হবে। সমাজের সর্বক্ষেত্রে এবং এই ক্ষমতায়নের হার পূর্বের চেয়ে বৃদ্ধি পাবে।
বিএনপির সাবেক উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক তাজমেরী এস ইসলাম বলেন, বর্তমানে সারা বিশ্বে সকল নারীর মধ্যে মাত্র ৩০ শতাংশ নিরাপদে আছে। বাকিরা এখনো নিরাপত্তার সীমার নিচে বসবাস করে। তাই, নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে কাজ করেছে এমন নেতা হলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তারই ধারাবাহিকতায় নারীদের এগিয়ে দিতে কাজ করেছেন বেগম খালেদা জিয়া। একজন নারী সফলতার সর্বোচ্চ শিকড়ে পৌঁছাতে হলে যা যা গুণ দরকার তার কিছু বেগম খালেদা জিয়ার মধ্যে আছে। তিনিই নারীদের এম্পাওয়ারম্যান্ট নিয়ে কাজ করেছিলেন।
এছাড়াও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল বলেছেন, এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে সবার আগে কারফিউ ভেঙেছিল নারীরা। নারী দিবসের এই দিন স্মরনীয় হয়েছে ভোটের আন্দোলন করেছিল বলে। অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে আমরা সেই ভোটের দাবি করছি। আজকের এই দিনে এটাই আমাদের সবার দাবি।
ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার আমলে নির্যাতনের শিকার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী খাদিজাতুল কুবরা বলেন ,আমি করোনাকালীন সময়ে ১৫ মাস জেল খেটেছি। আমরা নারী স্বাধীনতা অবশ্যই চাই কিন্তু সেটা কোন দিক থেকে? আমরা দেখতে পাই নারী স্বাধীনতায় বলা হয় একজন পুরুষ যেভাবে স্মোক করছে আমাকেও সেভাবে করতে দিতে হবে। এ ধরনের নারী স্বাধীনতাকে আসলে নারী স্বাধীনতা বলা যায় না। আপনার আরও দেখুন এই গণঅভ্যুত্থানের পরে সকল কিছুর ডকুমেন্টেশন আছে, সকল তথ্যই রয়েছে তার পরেও কতজনকে বিচারের আওতায় আনা গেছে? এটি অত্যন্ত দুঃখজনক।
উল্লেখ্য, ছাত্রদলের আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমেদ, উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান, বিশেষ অতিথি হিসেবে জাতীয় নির্বাহী কমিটির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল।
আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর শেহরিন আমিন মোনামী, প্রোভিসি প্রফেসর ড. সায়মা হক বিদিশাসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের বিভিন্ন হল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
সারাবাংলা/এআইএন/এনজে