Thursday 27 Mar 2025
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

ভিজিএফের ৫০০ জনের চাল আত্মসাতের অভিযোগ বিএনপি কর্মীর বিরুদ্ধে

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
২৬ মার্চ ২০২৫ ০৯:২৮

রাজশাহী: রাজশাহীর নওহাটা পৌরসভার ভিজিএফের চাল বিতরণের ‘দায়িত্ব’ পেয়েছিল বিএনপি। বিতরণ শুরুর পর বিএনপিরই এক গ্রুপ আরেক গ্রুপের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে যে, অন্তত ৫০০ জনের চাল আত্মসাৎ করা হয়েছে। যদিও পৌর প্রশাসক বলছেন, চাল আত্মসাতের ঘটনা ঘটেনি। এক গ্রুপের লোক চাল পাওয়ায় অন্য গ্রুপ এমন অভিযোগ তুলছে।

পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, এবার ঈদ উপলক্ষ্যে ৪ হাজার ৬২১ জনের জন্য মাথাপিছু ১০ কেজি করে চাল বরাদ্দ আসে। পৌরসভার একজন কর্মকর্তার কাছে থাকা তালিকায় দেখা যায়, পৌরসভা ৬০৮ জনের বরাদ্দ নিজেদের কাছে রাখে বিতরণের জন্য। আর জামায়াতে ইসলামীর নামে ৮৪৫টি, পৌর বিএনপির নামে ২ হাজার ৮৩১টি এবং ছাত্রদের অনূকুলে ৩৩৭টি কার্ড রাখা হয়। তবে পৌর বিএনপি ছাত্রদের নামে থাকা কার্ডগুলোও নেয়। অর্থাৎ পৌর বিএনপি মোট ৩ হাজার ১৬৮টি কার্ড বিতরণের দায়িত্ব পায়। মঙ্গলবার (২৫ মার্চ) সকাল থেকে তা বিতরণ করা হয়।

বিজ্ঞাপন

পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের অনেকেই এসে অভিযোগ তোলেন যে, তাদের নামে পৌর বিএনপির পক্ষ থেকে কার্ড দেওয়া হলেও চাল দেওয়া হচ্ছে না। চাল নিতে গেলে তাদের জানানো হচ্ছে এই কার্ডের চাল আগের দিনই বিতরণ হয়ে গেছে। এ সময় তারা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখান।

এদিকে অনেককেই চাল পেতে না দেখে পৌর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক জয়নাল আবেদীনসহ তার অনুসারীরা অভিযোগ তোলেন, চাল আত্মসাৎ করা হয়েছে। পৌর বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম রফিকের পক্ষে তার কর্মী রক্সি চাল বিতরণের দায়িত্বে ছিলেন। রক্সি চাল সরিয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ তোলেন বিএনপির জয়নালের পক্ষের লোকজন। এ সময় দুপক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। বিএনপিকর্মী রক্সিকে মারধরও করা হয়। পরে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নেন রক্সি।

বিজ্ঞাপন

বিএনপি নেতা জয়নাল আবেদীন বলেন, রক্সিকেই চাল বিতরণের দায়িত্ব দিয়েছিলেন পৌর বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম রফিক। রক্সি ৫০০ থেকে ৬০০ মানুষের চাল আত্মসাৎ করেছে। ১ নম্বর ওয়ার্ডের এসব মানুষ চাল পায়নি। রক্সি বেচে খেয়েছে।

বিএনপিকর্মী রক্সি বলেন, জয়নাল আবেদিন ও তার লোকজন আমাকে কোনো কথা বলার সুযোগ না দিয়েই চাল আত্মসাতের অভিযোগ তুলে মারধর করেছে। আমি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছি, থানায় মামলা করব।

পৌর বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম রফিক বলেন, পৌরসভা আমাদের সহযোগিতা চেয়েছিল। আমাদের ৩ হাজার ১৬৮টি কার্ড দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আমি তালিকা দিয়েছিলাম ৩ হাজার ২০০ জনের। ৩২ জনের তালিকা বেশি দেওয়ায় পৌরসভা থেকে আপত্তি জানানো হয়েছিল। আমি বলেছিলাম, পৌরসভার জন্য যে ৬০৮টি কার্ড আছে, সেখান থেকে অথবা সব ওয়ার্ড থেকে কয়েকটা করে কার্ড কমিয়ে যেন এই ৩২ জনকে চাল দেওয়া হয়, কিন্তু তারা সেটি করেনি। ফলে এই ৩২ জন চাল পায়নি। আত্মসাতের অভিযোগ সঠিক না। এই ৩২ জনকে আমি নিজের পকেট থেকে চাল কিনে দেব।

নওহাটা পৌরসভার প্রশাসক পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরাফাত আমান আজিজ দাবি করেন, বিএনপিকে চাল বিতরণের কোনো কার্ড দেওয়া হয়নি। তবে বিতরণের ক্ষেত্রে এলাকার গরীব মানুষদের চেনার জন্য বিএনপির সহযোগিতা নেওয়া হয়েছে। চাল আত্মসাদের ঘটনা ঘটেনি। তিনি বলেন, আমার পছন্দের লোক না পেয়ে অন্যের পছন্দের লোক চাল পেলে বলবে চাল আত্মসাৎ হয়েছে। এখানেই তেমন ঘটনাই ঘটেছে।

চাল বিতরণের সময় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও বিএনপিকর্মী রক্সিকে মারধরের বিষয়ে জানতে চাইলে পবা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনিরুল ইসলাম বলেন, মঙ্গলবার সকালে আমি গিয়েছিলাম। একটু উত্তেজনা ছিল। এ জন্য পুলিশ রাখা ছিল। মারামারির কথা আমাকে কেউ বলেনি। এমন ঘটনা ঘটে থাকলে এবং ভুক্তভোগী অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সারাবাংলা/এসআর

চাল আত্মসাতের অভিযোগ ভিজিএফের চাল রাজশাহী

বিজ্ঞাপন

সিলেটে ছেলের হাতে বাবা খুন
২৭ মার্চ ২০২৫ ২১:৫১

আরো

সম্পর্কিত খবর